নবীগঞ্জের এক বেহাল সড়কে ধান পরিবহনে চরম ভোগান্তিতে চার উপজেলার কৃষক
সিলেটে চৈত্র থেকেই শুরু হওয়া বিরামহীন বৃষ্টি আর বৈশাখের অকাল বন্যায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাওরাঞ্চলের কৃষকরা। পানির তোড়ে অনেক আবাদি জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার পর যেটুকু ফসল রক্ষা পেয়েছে, তা ঘরে তোলা বা বাজারে নেওয়া এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কাজিরবাজার থেকে মার্কুলী হয়ে সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লা পর্যন্ত সড়কটির বিধ্বস্ত অবস্থার কারণে হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের চারটি উপজেলার মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নবীগঞ্জ উপজেলার হাওরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র এই সড়কটি এখন কৃষকদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলমগ্ন জমি থেকে অনেক কষ্টে ধান কাটলেও হাওরপার থেকে চাতাল বা খলায় ধান নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। সড়কের বড় বড় গর্তে ধানবোঝাই ট্রাক আটকে গিয়ে প্রায়ই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ঘুঙ্গিয়াজুরী হাওরের কৃষক আব্দুল কাহার চৌধুরী আক্ষেপ করে বলেন, "সড়ক ভালো থাকলে দ্রুত ধান সরানো যেত। যাতায়াত ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে সময়মতো ধান আনতে না পারায় প্রায় ১০০ একর জমির ফসল নষ্ট হওয়ার পথে।"
স্থানীয় আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের দাবি, এমনিতেই টানা বৃষ্টিতে অধিকাংশ ধান ভেজা, তার ওপর ট্রাক উল্টে সড়কে পড়লে সেই ধান আর কোনো কাজে আসবে না। নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিদ আহমদ তালুকদার জানান, এই সড়ক দিয়ে নবীগঞ্জ, বানিয়াচং, দিরাই ও শাল্লা—এই চার উপজেলার ধান ঢাকা বা ভৈরবের আড়তে যেতে পারছে না। বৃষ্টির পানি জমে সড়কের গর্তগুলো এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে, যার ফলে যানবাহন পাওয়া যাচ্ছে না এবং পাওয়া গেলেও ভাড়া গুনতে হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি।
নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফজলুল হক মনি বলেন, "ভারী বর্ষণে এরই মধ্যে ৪০০ হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে অবশিষ্ট ধান আনা-নেওয়ায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে।" নবীগঞ্জ শহর থেকে হাওরাঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোর সংযোগস্থল এই ১৭ কিলোমিটার সড়কে প্রতিদিন সিএনজি, ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্সসহ শত শত গাড়ি ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ২ নম্বর ভাকৈর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন ছুবা জানান, বাজার দর ভালো নেই, তার ওপর সময়মতো ধান বাজারে নিতে না পারলে এবার বোরো চাষিদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: