তাহিরপুরে ইউএনও’র উদ্যোগে ৬ শতাধিক মাঝির কর্মসংস্থান
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হাওরাঞ্চল-ভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্র টাঙ্গুয়ার হাওরে পরিবেশ সুরক্ষা ও স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল হাসেম। এরই অংশ হিসেবে তিনি হাওরে পর্যটনবাহী নৌযানসমূহকে গভীর জোনে না গিয়ে তীরবর্তী এলাকায় নোঙর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে হাওরের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে, পর্যটকদের হাওরের ভেতরে প্রবেশে ছোট ছোট নৌকা ব্যবহার বাধ্যতামূলক হওয়ায় (প্রায়) ৬শতাধিক ছোট নৌকার মাঝির জন্য সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থান।
এই উদ্যোগে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করতে ছোট নৌকার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় হাওর পাড়ের অনেক পরিবার অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় জনতা, পরিবেশকর্মী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
টাংগুয়ার হাওর পাড় সংলগ্ন,উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম বলেন, ইউএনও মহোদয়ের কয়েকটি কাজ স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকা। বিশেষ করে টাংগুয়ার ওয়াচ টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় হাজারো নৌকার মাঝির কর্মসংস্থান,ভাসমান বাজার স্থাপন, সদরে শিশু পার্ক,বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল, রাস্তাঘাট নির্মান ও প্রায় ৩৫ হাজার বৃক্ষরোপণ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। স্যারের এমন উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই।
ছিলানী তাহিরপুর গ্রামের নৌকার মাঝি সফর আলী বলেন,ইউএনও স্যার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করার ফলে, আমাদের মত গরীব মানুষের আয়ের পথ সুগম হয়েছে।এখন আর যেতে হয় না, ঢাকা- চট্টগ্রাম। বাড়ি থেকেই বৈধ ভাবে এক থেকে দুই হাজার টাকা আয়রোজগার করে চলতে পারছি। তবে, স্যার এই আদেশ সব সময় বলবত থাকলে, পর্যটকদের আগমনে স্থানীয় মানুষের জীবন মান আরও উন্নয়ন হবে।
ইউএনও আবুল হাসেম বলেন, “উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষা একসাথে সম্ভব—তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করে পরিবেশবান্ধব পর্যটন গড়ে তোলাই আমাদের উদ্দেশ্য। তিনি আরও বলেন, এ উদ্যোগকে স্থায়ী করতে বেশ কিছু নীতিমালা তৈরির কাজও চলছে বলে জানান।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: