জামালগঞ্জে ইউএনওকে ঘিরে বিতর্ক, সরকারি কর্মকর্তাদের মাঝে আতঙ্ক

মতের অমিল হলেই ‘আওয়ামী ট্যাগ

জামালগঞ্জে ইউএনওকে ঘিরে বিতর্ক, সরকারি কর্মকর্তাদের মাঝে আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি,জামালগঞ্জ

১০/০৮/২০২৬ ১৩:১৯:০২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মতের অমিল বা সিদ্ধান্তের বিরোধিতা হলেই সরকারি কর্মকর্তাদের গায়ে ‘আওয়ামী লীগ’ বা ‘স্বৈরাচারের দোসর’ তকমা এঁটে দেওয়া যেন এক নতুন সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। গণমাধ্যমে কিছু ঘটনা প্রকাশ পেলেও সিংহভাগই থাকছে লোকচক্ষুর আড়ালে। দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার মধ্যেও এমন রাজনৈতিক ট্যাগিংয়ের কারণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে বিরাজ করছে ভয় ও উৎকণ্ঠা। সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের সাম্প্রতিক ঘটনাও এর বাইরে নয়।

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদককে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভাণ্ডার-২০২৬’-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার বাছাই পরীক্ষার ফলাফল (নির্বাচিত, রিজার্ভ ও অপেক্ষমাণ তালিকা) প্রকাশ করা হয়। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা। তারা ইউএনও শিল্পী রাণী মোদককে ব্যঙ্গাত্মকভাবে "আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি" আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন।

তবে এই ইস্যুতে স্থানীয় রাজনীতিতে স্পষ্ট বিভাজন দেখা গেছে। বিএনপিরই এক অংশ ইউএনওর সিদ্ধান্তের পক্ষাবলম্বন করেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় কিছু কর্মী প্রশ্ন তুলেছেন—"তিনি কি সত্যিই কোনো দলের এজেন্ট, নাকি উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে তাকে আওয়ামী লীগ বানানো হচ্ছে?"

রাজনৈতিক এই কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির মধ্যে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা আক্ষেপ করে বলেন, "ভাই, কিছু বললেই রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়া হয়। আমরা এক জেলা থেকে এসে পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে চাকরি করি। চরম কোন্দলের মাঝে আমরা কার্যত জিম্মি। মুখ খুলে কথা বলারও উপায় নেই।"

সুশীল সমাজ ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের মতে, সামান্য দ্বিমত হলেই রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে ‘আওয়ামী লীগ’ বা ‘দালাল’ তকমা বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ জামালগঞ্জ অঞ্চলটি শুরু থেকেই রাজনৈতিক সম্প্রীতির জন্য পরিচিত—এখানে রাজনৈতিক হানাহানি বা সহিংসতার নজির নেই।

স্থানীয়দের অভিমত, যারা আজ অন্যদের ‘স্বৈরাচারের দোসর’ বা ‘দালাল’ বলে প্রচার চালাচ্ছেন, তাদের নিজেদের পরিবারের আপনজন বা নিকটাত্মীয়দের অনেকে সরাসরি ওই রাজনীতির সাথে যুক্ত। এমন নোংরা রাজনৈতিক চর্চা বন্ধ করে জামালগঞ্জের থমকে যাওয়া উন্নয়ন মূলক কাজগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে মনোযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ।

রকি ইসলাম/ ডিডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad