নেটদুনিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া
‘আমরা কি বিএনপিতে ভাড়াটিয়া?’ সুনামগঞ্জে বিএনপির নেতার ফেসবুক পোস্ট
‘আমরা কি বিএনপিতে ভাড়াটিয়া?’—উপজেলা বিএনপির এক নেতার করা এমন বিস্ফোরক প্রশ্নে এখন তোলপাড় চলছে সুনামগঞ্জজুড়ে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের বরাদ্দ ও আর্থিক সহায়তা বণ্টনে ‘অবমূল্যায়ন’ ও গোপনীয়তার অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন তিনি। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা নিয়ে প্রতিদিন শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।
সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও তাহিরপুর) আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দ ও সহায়তা বণ্টন এবং জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়ে এই প্রশ্ন তুলেছেন দলের নেতা গোলাম রব্বানী আফিন্দী। তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে তৈরি করা একটি ফটোকার্ড পোস্ট করেন গোলাম রব্বানী। এতে বিএনপির দলীয় পতাকা ও লোগো ব্যবহার করা হয়।
পোস্টে তিনি লেখেন, “আমার সরল মনে একটা প্রশ্ন! জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির লিজের মেয়াদ কত দিন/সাল? এমপি সাহেবের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নগদ বরাদ্দ ও সহায়তা বণ্টনের বিষয়টি আমাদের না জানানো কিংবা আমাদের অবমূল্যায়ন করার কোনো অঘোষিত নির্দেশনা জারি আছে কি না?”
ক্ষোভ প্রকাশ করে এই বিএনপি নেতা আরও লেখেন, “এমপি সাহেবের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নগদ বরাদ্দ, ঈদ উপলক্ষে অর্থ সহায়তা এবং কিছুদিন আগে ৩০ টন চাল বণ্টন—এসবের কিছুই কি আমাদের জানার অধিকার নেই? আমি ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির একজন। কিন্তু সহায়কের ভূমিকা তো দূরের কথা, আমরা কি দেখতে, শুনতেও পাব না? আমরা কি বিএনপিতে ভাড়াটিয়া?”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, তৃণমূলের এসব আলোচনা-সমালোচনা এবং জনমনের প্রতিক্রিয়া সংসদ সদস্য কামরুল ভাই পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে কি না।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক (স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল মালেক বলেন, রব্বানী এমপি সাহেবের কাছে জানতে চেয়েছে, এমপি সাহেব দেশে ফিরলে জবাব দেবেন। আর বরাদ্দের বিষয়ে তাকে জানানোর কোনো নিয়ম নেই, সে তো সেই দায়িত্বে নেই। ২১ জনকে নিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়, এমপি সাহেব যুগ্ম আহ্বায়কদের সঙ্গে আলোচনা করেই কাজ করছেন।
অন্যদিকে, জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সফিকুর রহমান দাবি করেন, সকল বরাদ্দ ও চাল বণ্টনের সিদ্ধান্ত কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বসেই নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “রব্বানী আফিন্দী ফেসবুকে যা লিখেছেন, তা সত্য নয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ এপ্রিল সফিকুর রহমানকে আহ্বায়ক ও চারজনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ২১ সদস্যের জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে এই বিবাদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কের পারদ ক্রমেই বাড়ছে।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: