শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে আজ শুক্রবার বাদ আসর সাত্তার দম্পতির জানাযা
সিলেটের রায়নগরের নিজ বাসায় নির্মমভাবে খুন হওয়া বৃদ্ধ দম্পতি আব্দুস সাত্তার ও তাঁর স্ত্রীর জানাযার নামাজ আজ শুক্রবার বাদ আসর ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। তাঁদের শেষবারের মতো দেখতে ও শেষবিদায় জানাতে ইতোমধ্যেই প্রবাস থেকে দেশে ফিরেছেন তাঁদের দুই কন্যা।
চাঞ্চল্যকর এই ত্রিপল মার্ডারের ঘটনার পর থেকে একের পর এক নতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে, যা নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে কেবল পারিবারিক বা ব্যক্তিগত বিরোধই নাকি অন্য কোনো নেপথ্য কারণ রয়েছে—তা নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। নিহতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মানিক জানান, নগরীর রিকাবীবাজারের একটি সম্পত্তি ও ‘ইম্পালস টাওয়ার’ নির্মাণ সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি সিভিল রিভিশন মামলা (নং ৭০/২৩) বিচারাধীন রয়েছে, যার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ঘটনাটি তদন্তের সময় পুলিশ বাসা থেকে কিছু দলিলের কপি উদ্ধার করলেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র খোয়া গেছে বলে জানা গেছে। ফলে এই সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই পরিকল্পিত কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না—তা খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত প্রধান আসামি বাবুল মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল পুলিশকে জানায়, সে ওই বাড়িতে পূর্বে কাজ করত এবং সে সূত্রে গৃহকর্মী তাহমিনার সাথে তার পরিচয় ও সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন সকালে সে ওই বাসায় প্রবেশ করে। পরবর্তীতে তাহমিনার সাথে বাদানুবাদের একপর্যায়ে তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে। চিৎকার শুনে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার ও তাঁর স্ত্রী এগিয়ে এলে বাবুল তাঁদের ওপরও হামলা চালায়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।
তবে গ্রেফতারকৃত বাবুলের জবানবন্দি ও আচরণ নিয়ে জনমনে নানা গুঞ্জন রয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তার দেয়া তথ্যের পেছনে অন্য কোনো মূল পরিকল্পনাকারী রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্তের দাবি উঠছে।
নিহত সাত্তার দম্পতির চার সন্তানই প্রবাসী। দেশে একা থাকা বৃদ্ধ বাবা-মায়ের এই মর্মান্তিক পরিণতিতে সিলেটের সচেতন মহল এবং প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দিনদুপুরে নিজ বাড়িতে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
একই ঘটনায় নিহত গৃহকর্মী তাহমিনার পরিবারেও চলছে শোকের মাতম। সিলেটের স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের একটাই দাবি—তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে আসামি বাবুলসহ এর সাথে জড়িত সম্ভাব্য সকল অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক কঠিন শাস্তি ও ফাঁসির আওতায় আনা হোক।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: