শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হিন্দু শিক্ষার্থীদের গরুর মাংস পরিবেশন!

শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হিন্দু শিক্ষার্থীদের গরুর মাংস পরিবেশন!

প্রথম ডেস্ক

১৪/০৮/২০২৬ ২৩:১৭:২৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক রিয়াসাল রাকিবের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের গরুর মাংস পরিবেশনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে লাইব্রেরির কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে খাবার পরিবেশনের সময় এ ঘটনা ঘটে বলে কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন।


অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও খাদ্যাভ্যাস বিবেচনায় না নিয়ে তাদের হাতে গরুর মাংসের ভুনাখিচুড়ির বক্স পৌছে দেওয়া হয়। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন।


তবে আয়োজকরা বলছেন, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটেনি। সনাতন শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদাভাবে মোরগ পোলাওয়ের ব্যবস্থা করা হলেও খাবার পৌছাতে দেরি হওয়ায় সেটি নির্ধারিত শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো দেওয়া সম্ভব হয়নি।


এ বিষয়ে জকসুর পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক রিয়াসাল রাকিব তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, সনাতন শিক্ষার্থীদের গরুর মাংস খাওয়ানোর অভিযোগ ‘পুরোটাই মিথ্যা এবং ভুল বোঝাবুঝি’। তিনি জানান, অনুষ্ঠানে গরুর মাংসের ভুনাখিচুড়ির পাশাপাশি সনাতন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি রেস্টুরেন্ট থেকে মোরগ পোলাওয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। খাবারগুলো স্টেজের পেছনে রাখা ছিল। কিন্তু খাবার আসতে দেরি হওয়ায় আয়োজকদের অজান্তে কয়েকজন সেগুলো খেয়ে ফেলেন।


রিয়াসাল রাকিবের ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে ভুলবশত ভুনাখিচুড়ির বক্স সনাতন শিক্ষার্থীদের হাতে চলে যায়। বিষয়টি নজরে আসার পর তারা খাবারগুলো রেখে দেন। পরে তিনি আরও ৫০টি মোরগ পোলাও এনে বিকল্প ব্যবস্থা করেন।


তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছে খাবারের বিষয়টি মাইকে ঘোষণা না করা।’ এ ঘটনায় উপস্থাপনাকারীদের পক্ষ থেকে এবং নিজের পক্ষ থেকে সনাতন শিক্ষার্থীদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি।


আয়োজকের দাবি, সনাতন শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত খাবার অন্যরা খেয়ে ফেলার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি জানার পরপরই বিকল্প খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।


এদিকে শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো আয়োজনে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অংশগ্রহণকারীদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও খাদ্যাভ্যাসের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত। বিশেষ করে সংবর্ধনার মতো অনুষ্ঠানে খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রে আগে থেকেই অংশগ্রহণকারীদের খাদ্যসংক্রান্ত বিষয় বিবেচনায় নেওয়া এবং পৃথক খাবারের ব্যবস্থা থাকলে তা স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন।


নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad