সুনামগঞ্জে জলমহাল ইজারাদারকে কলার ধরে বিএনপি অফিসে নিয়ে প্রহার
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় উপজেলা নির্বাহী আদালত প্রাঙ্গণ থেকে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে এক জলমহাল ইজারাদারকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে মারধর ও ভিডিও ধারণ করে স্বীকারোক্তি আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ইজারাদারের নাম মালেক সিকদার (৬০)। তিনি ধর্মপাশা উপজেলার সরিষাকান্দা গ্রামের মরহুম খলিল সিকদারের ছেলে। তিনি 'জয়ধনা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি'র সাবেক সভাপতি ও 'ডুবাইল বিল গ্রুপ' জলমহালের বর্তমান ইজারাদার। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মালেক সিকদার অভিযোগ করে বলেন, গত ১৯ জুলাই বিএনপি নেতাকর্মীরা আমার জলমহাল জবরদখল, নৌকা ভাঙচুর, মাছ লুট ও পাহাদারদের হুমকি দিলে আমি বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিই এবং সংবাদ সম্মেলন করি। এর জের ধরে আমাদের বিরুদ্ধে একটি হয়রানিমূলক মামলা করা হয়। সোমবার সকালে সেই মামলার নোটিশ পেয়ে ইউএনও অফিসে হাজিরা দিতে গেলে বিএনপি নেতা কামাল মিয়াসহ অনেকে আমাকে শাসাতে থাকেন।
তিনি আরও বলেন, হাজিরা শেষে বের হওয়ার পর ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ নূরুল ইসলাম (বিএসসি), সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালাউদ্দিন মাহতাব, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহবুব আলম হাদিস, বিএনপি নেতা আবুল কাশেম মেম্বার, আশিক খান, কামরুল হাসান চৌধুরী, পলাশ মিয়া, রয়েল মিয়া ও রিপন মিয়াসহ ১০-১২ জন নেতাকর্মী আমার শার্টের কলার ধরে টেনে হেঁচড়ে স্থানীয় বিএনপি অফিসে নিয়ে যান। সেখানে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক মোবাইল ভিডিও ধারণের মাধ্যমে তাদের পক্ষে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম (বিএসসি) বলেন, অভিযোগকারী মালেক সিকদার আমাকে চেনেন কি না, তা জানার জন্যই তাকে আমাদের অফিসে ডেকে আনা হয়েছিল। তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে স্বীকার করেছেন যে অন্যের প্ররোচনায় পড়ে আমাদের বিরুদ্ধে ভুল অভিযোগ করেছিলেন।
আহ্বায়ক কমিটির অন্য সদস্য মাহবুব আলম হাদিস দাবি করেন, আত্মীয়তার সূত্র ধরে মালেক সিকদারকে অফিসে আনা হয়। ঘটনার বিষয়ে জানতে চেয়ে তাকে আপ্যায়ন করে সম্মানজনকভাবেই বিদায় দেওয়া হয়েছে। মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ পাঠিয়ে মালেক সিকদারকে উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং লিখিত অভিযোগ সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রীতম দাস/ ডিডি
মন্তব্য করুন: