হাওরাঞ্চলে যোগাযোগের নতুন দিগন্ত
সুনামগঞ্জে ৩,৪৯০ কোটি টাকার উড়াল সড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগের দুর্ভোগ লাঘব ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক সূচিত হলো। জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলার সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে কাঙ্ক্ষিত উড়াল সড়কের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলার কুকড়াপশী গ্রামের সামনে ‘হাওর এলাকায় উড়ালসড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় সড়কটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগর ও তাহিরপুর) আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। এর মধ্য দিয়ে অবহেলিত হাওরবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হলো।
সুনামগঞ্জ জেলা জুড়ে বাস্তবায়নাধীন এই সুবৃহৎ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। মূল সড়কের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮ কিলোমিটার, যার মধ্যে ১০.৮১ কিলোমিটার নির্মিত হবে উড়াল সড়ক (Flyover) হিসেবে। সড়কটি জামালগঞ্জের সাচনা-কাজীরগাঁও, ধর্মপাশার জয়শ্রী, ধর্মপাশা বাজার ও আলেকদিয়া হয়ে পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনার বারহাট্টা পর্যন্ত গিয়ে সংযুক্ত হবে।
উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সাথে ধর্মপাশা, মধ্যনগর ও জামালগঞ্জের কিছু অংশে এতদিন সরাসরি কোনো সড়ক যোগাযোগ ছিল না। বর্ষা মৌসুমে একমাত্র ভরসা ছিল নৌকা, আর শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হেঁটে কিংবা মোটরসাইকেলে ভেঙে ভেঙে যাতায়াত করতে হতো। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ কাটিয়ে উড়াল সড়কটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি, মৎস্য ও পর্যটন খাতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান, সাইফুল্লাহ এবং অমৃত জ্যোতি তালুকদার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "দ্বীপাঞ্চলের মতো বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করা এই অঞ্চলের মানুষের জেলা সদরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক চিত্রই বদলে যাবে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাচনা বাজার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আয়োজনে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদকের সভাপতিত্বে এবং জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উড়াল সড়ক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফেরদৌস আহমদ, সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আনিসুল হক এবং ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল মুতালিব খান।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: