৩৫ বছর পর আগামীকাল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট

৩৫ বছর পর আগামীকাল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট

প্রথম ডেস্ক

১৯/০৮/২০২৬ ১১:০৪:৩৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা। ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে সরাসরি ভোট হতে যাচ্ছে এবার।

এদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা কীভাবে ভোট দেবেন, ব্যালট কীভাবে গ্রহণ ও পূরণ করবেন এবং ভোট গণনা শেষে কীভাবে ফল ঘোষণা হবে, তা জানিয়ে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

ইসি সচিব বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। ফলে আগামী ২০ আগস্টের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

তিনি জানান, আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোট শুরুর আগে নির্বাচনকর্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভোট গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের অবহিত করবেন। এরপর ভোট গ্রহণ শুরু হবে।

ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া তুলে ধরে আখতার আহমেদ বলেন, ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে। একটি মুড়ি অংশ এবং অন্যটি মূল ব্যালট পেপার। মুড়ি অংশে থাকবে ক্রমিক নম্বর, ভোটদানকারী সংসদ সদস্যের নাম এবং বিভক্তি নম্বর। এর নিচে একটি নির্দিষ্ট স্থানে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। এরপর ব্যালট পেপার গ্রহণ করবেন।

মূল ব্যালট পেপারের ডান পাশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণমালার আদ্যাক্ষর অনুযায়ী মুদ্রিত থাকবে। প্রার্থীদের নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে সংসদ সদস্যরা পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন।

ভোট দেওয়ার পর নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপার জমা দিতে হবে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ব্যালট গ্রহণ করা হবে। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরই ব্যালট গণনা শুরু হবে।

ইসি সচিব জানান, মোট ভোটার ৩৪৯ জন। গণনার সময় কতজন ভোট দিয়েছেন, কতটি ব্যালট বৈধ হয়েছে, কতটি বাতিল হয়েছে এবং কতটি ব্যালট অব্যবহৃত রয়েছে, তা হিসাব করা হবে। এরপর প্রার্থীদের প্রাপ্ত বৈধ ভোটের হিসাব করা হবে। যে প্রার্থী বেশি ভোট পাবেন, তাকে নির্বাচনকর্তা বিজয়ী ঘোষণা করবেন। পরে নির্বাচন কমিশনে ফিরে ফলাফল অনুযায়ী গেজেট প্রকাশ করা হবে।

সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি পদে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালে। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট। এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় আর ভোটাভুটির প্রয়োজন হয়নি।

১৯৯১ সালের পর এই প্রথম রাষ্ট্রপতি পদে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর বিপরীতে বিরোধী জোটের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাই এবারের নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।

রত্না বাউরী

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad