সফরসূচি বদলে সিউকের উদ্বোধনে অনুপস্থিত প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

সিলেটের রাজনীতিতে পুরনো উত্তাপ

সফরসূচি বদলে সিউকের উদ্বোধনে অনুপস্থিত প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২৫/০৮/২০২৬ ১৫:১৯:৩১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট সফর বহাল থাকলেও শেষ মুহূর্তে বদলে গেছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সূচি। আজ মঙ্গলবার সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও কার্যালয় চালুর ঐতিহাসিক মুহূর্তে তিনি থাকছেন না। দাওয়াতনামায় নাম থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে মন্ত্রীর এই অনুপস্থিতিকে ঘিরে সিলেটের সচেতন রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তোলপাড়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বইছে আলোচনার ঝোড়ো হাওয়া।


ঘটনাটি কেবল সফরসূচির পরিবর্তন নয়, বরং এর নেপথ্যে রয়েছে সিলেট বিএনপির দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও কোন্দল—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতি বিশ্লেষকরা।


আরিফুল হক চৌধুরীর অনুসারী ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, পুরো অনুষ্ঠানটি এমনভাবে আয়োজন করা হয়েছে এবং দাওয়াতনামার কাঠামো যেভাবে সাজানো হয়েছে, তা মোদ্দা কথা এক ধরণের 'দায়সাড়া দায়িত্ব'। সেখানে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদা ও প্রটোকল দেওয়া হয়নি। প্রকারান্তরে তাকে এড়িয়ে যাওয়ার বা কৌশলে অনুপস্থিত রাখার একটি প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়েছিল বলেই তারা মনে করছেন।


উল্লেখ্য, সিউকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত সাবেক কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই নিয়োগ ও দফতর বণ্টনের পর থেকেই দুপক্ষের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা নতুন রূপ নেয়।


রোববার প্রকাশিত সফরসূচিতে সিউকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরিফুল হক চৌধুরীর যোগ দেওয়ার স্পষ্ট উল্লেখ ছিল। তবে ওই দিন রাতেই এক পরিমার্জিত সফরসূচি জারি করা হয়, যেখানে তাঁর সিলেট যাত্রা বহাল থাকলেও সিউকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি তালিকা থেকে বাদ পড়ে।


তবে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বিষয়টি অস্বীকার করে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় আমার জরুরি এনগেজমেন্ট ছিল। এছাড়া আজ সুনামগঞ্জে নিরাপদ অভিবাসনবিষয়ক একটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে আমাকে উপস্থিত থাকতে হবে। সময়ের বাধ্যবাধকতার কারণেই সিউকের অনুষ্ঠানে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না; এর পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই।’


অন্যদিকে সিউক চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘প্রটোকল মেনেই মাননীয় মন্ত্রীকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। আমি নিজে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছি এবং তিনি সম্মত হওয়ার পরেই দাওয়াতপত্রে নাম দেওয়া হয়। হঠাৎ কী কারণে সফরসূচি বদলেছে, তা আমার জানা নেই।’


সিলেট-১ আসনে মনোনয়ন লড়াই থেকে শুরু করে গত জুনে সিলেটের বিদায়ী জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের বদলি ও নতুন ডিসি নিয়োগ সংক্রান্ত মনস্তাত্ত্বিক লড়াই—সবখানেই বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর মধ্যকার দৃশ্যমান রাজনৈতিক দূরত্ব স্পষ্ট ছিল। স্থানীয় সরকার প্রশাসন ও সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলোতে নিজ নিজ বলয়ের আধিপত্য বজায় রাখার প্রতিযোগিতা নির্বাচনের পর থেকেই বজায় রয়েছে।


প্রায় দুই মাস পর আজ সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) উদ্বোধনী আয়োজনকে কেন্দ্র করে সিলেট বিএনপির সেই পুরোনো রাজনৈতিক মনস্তাত্ত্বিক কোন্দল ও অভ্যন্তরীণ দূরত্ব আবারও প্রকাশ্যে চলে এলো।

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad