একাদশ দ্বাদশে হিসাববিজ্ঞান পাঠদানে পরিবর্তনের প্রস্তাব
উচ্চ মাধ্যমিকের একাদশ শ্রেণি থেকেই হিসাববিজ্ঞান প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র একসঙ্গে পড়ানোর বর্তমান নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ৩৪তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা ও ঢাকা উদ্যান সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আব্দুর রাজ্জাক।
মঙ্গলবার তিনি আবেদনটি করেন। বর্তমানে মাউশিতে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
আবেদনে আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, হিসাববিজ্ঞান মূলত ধারাবাহিক ও প্রক্রিয়াভিত্তিক বিষয়। তাই প্রথম পত্রের বিষয়গুলো ভালোভাবে শেখার আগেই দ্বিতীয় পত্র পড়ানো শুরু হলে শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি জটিল হয়ে ওঠে।
দীর্ঘ ১৬ বছর উচ্চ মাধ্যমিক, অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে হিসাববিজ্ঞান পড়ানোর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথম পত্রের ১০টি অধ্যায় ধারাবাহিকভাবে শেষ করার আগে দ্বিতীয় পত্রের বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীদের জন্য যথাযথভাবে বোঝা কঠিন। অথচ বর্তমান ব্যবস্থায় একাদশ শ্রেণি থেকেই দুই পত্র একসঙ্গে পড়ানো হচ্ছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, একই সময়ে দুই পত্র পড়ানোর কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি পাঠদানের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতাও ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পরীক্ষার ফলাফলেও পড়তে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনকারীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে প্রায় ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
শ্রেণিকক্ষের বাস্তব সমস্যার কথাও আবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, সপ্তাহে পাঁচ দিন পাঁচজন শিক্ষক যদি পাঁচটি আলাদা অধ্যায় পড়ান, তাহলে শিক্ষার্থীদের একই সময়ে একাধিক অধ্যায় অনুসরণ করতে হয়। এতে অধ্যায়গুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝা এবং ধারাবাহিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে কিংবা কোনো কারণে ক্লাস বাতিল হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। একটি নির্ধারিত ক্লাসের পর একই শিক্ষকের পরবর্তী ক্লাস পেতে প্রায় ১৫ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। এতে শেখার ধারাবাহিকতা আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ ছাড়া একই অধ্যায় একাধিক শিক্ষক পর্যায়ক্রমে পড়ালে তাঁদের পাঠদানের কৌশল ও উপস্থাপনার পার্থক্যের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব সমস্যা বিবেচনায় একাদশ শ্রেণিতে শুধু হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে শুধু দ্বিতীয় পত্র পড়ানোর নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন আব্দুর রাজ্জাক।
একই সঙ্গে একটি শ্রেণিকক্ষে সর্বোচ্চ দুজন শিক্ষকের সমন্বিত ও পরিকল্পিত পাঠদানের ব্যবস্থা করার কথাও বলেছেন তিনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একই বিষয়ের একাধিক বই কেনার সামর্থ্য অনেক শিক্ষার্থীর নেই। অথচ শ্রেণিকক্ষে বিভিন্ন বই অনুসরণ করে পড়ানো হলে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়।
এ কারণে শ্রেণিকক্ষে অননুমোদিত বই অনুসরণ বন্ধ করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড অনুমোদিত বই অনুসরণ নিশ্চিত করার দাবিও উঠেছে। এতে শিক্ষার্থীদের একদিকে পাঠ্যবিষয় বুঝতে সুবিধা হবে, অন্যদিকে অতিরিক্ত বই কেনার আর্থিক চাপও কমবে বলে সংশ্লিষ্টদের মত।
রত্না বাউরী
মন্তব্য করুন: