সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দুর্নীতি: ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী কারাগারে

সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দুর্নীতি: ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী কারাগারে

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২৫/০৮/২০২৬ ০৩:৩৬:৫৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিমেবি) জনবল নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির মামলায় অতিরিক্ত ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে আসামীরা সিলেট বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক (জেলা জজ) শাহাদাৎ হোসেন প্রামানিক আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতের আদেশের পর পুলিশ আসামীদের সিলেট মেট্রোপলিটন কারাগারে প্রেরণ করে। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিউল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কারাগারে পাঠানো কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলেন,  সহকারী কলেজ পরিদর্শক মাইদুল ইসলাম চৌধুরী,সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) গোলাম সরওয়ার, সেকশন অফিসার আতিক শাহরিয়ার ধ্রুব, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জুয়েল ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর লুৎফা বেগম। 


ফিরে দেখা :

সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধভাবে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া, নিয়োগের মেয়াদ নিয়মবহির্ভূতভাবে বৃদ্ধি করা এবং সরকারি অনুদানের খাত থেকে আইনবহির্ভূতভাবে বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরবর্তীতে একই বছরের ২৫ এপ্রিল মামলার আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. নঈমুল হক চৌধুরীসহ মোট ৫৮ জনকে আসামী করা হয়। বর্তমানে এই মামলার মোট ১৩ জন কারাগারে আছেন, ২১ জন জামিনে রয়েছেন এবং তৎকালীন ভিসি-রেজিস্ট্রারসহ বাকীরা পলাতক রয়েছেন।

এদিকে দুদকের দায়ের করা এ মামলাটির নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মামলার ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে,সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই অ্যাডহক নিয়োগ ও তার মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। এতে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো হাত বা দায় নেই। সরকারি অনুদান বা কোন খাত থেকে বেতন-ভাতা প্রদান করা হচ্ছে, তা সাধারণ চাকরিজীবীদের জানার সুযোগ নেই। এটি সম্পূর্ণ নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার।তাছাড়া ১ বছরের বেশি সময় ধরে বেতন-ভাতা গ্রহণ করার অভিযোগে ৫৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামী করা হয়েছে। অথচ একই প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ২৪২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন। আইনি ধারায় যদি মামলা করতেই হয়, তবে ২৪২ জনের বিরুদ্ধেই হওয়া উচিত ছিল।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ৫৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বেছে নিয়ে এ মামলায় আসামী করা হয়েছে। তারা ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলাটি পুনরায় নিরপেক্ষ ও অধিকতর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

নীরব চাকলাদার/ ডিডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad