ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদার সম্পর্ক রাখতে চায় জামায়াত
ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক সমতা ও সমমর্যাদার সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন দলটির আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা পারস্পরিক সমতা ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে একটি সম্পর্ক চাই। ভারত আমাদের প্রতিবেশী এবং কেউ এটি পরিবর্তন করতে পারবে না। আমরা তাদের কাছ থেকে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ আশা করি, কিন্তু তা আমরা তাদের কাছ থেকে পাই না।’
তিনি বলেন, ‘তাদের (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং এখন তারা মনে করছে যে তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে।’ সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ২০টি অধ্যাদেশ পাস না করায় বিএনপির সমালোচনা করেন ডা. শফিকুর রহমান। তার অভিযোগ, বর্তমান সরকার প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে।
ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির জানান, জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে একটি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ শুরু করেছে। সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে গেলে এটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।
গণতন্ত্র উত্তরণে বিরোধী দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে সহযোগিতা করার জন্য সম্পাদকদের সাহায্য কামনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, লেখনির মধ্য দিয়ে জাতির কাছে সম্পাদকরা সত্য তুলে ধরেন। আমরা সেই সহযোগিতা চাই।
শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সংসদকে কার্যকর রাখতে চাই। সংসদকে সব কর্মকাণ্ডের মূল জায়গা করতে চাই। আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করছি, কিন্তু ‘হাও ফার, হাও লং?’ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ একটি প্রতিবাদ ছিল বলেও তিনি জানিয়েছেন।
মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, কালবেলা সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, খবরের কাগজ সম্পাদক মোস্তফা কামাল, মানবকণ্ঠের মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, এদিনের নির্বাহী সম্পাদক খন্দকার মোজাম্মেল হক, ভোরের ডাক সম্পাদক কে এম বেলায়েত হোসেন, আজকের পত্রিকা সম্পাদক কামরুল হাসান, দেশ রূপান্তরের নির্বাহী সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, আগামীর সময় সম্পাদক মোস্তফা মামুন, খোলা কাগজ সম্পাদক আহসান হাবীব, দ্য নিউ নেশন সম্পাদক মো. মোকাররম হোসেন, বাণিজ্য প্রতিদিন সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, করতোয়ার মোজাম্মেল হক প্রমুখ।
মতবিনিময় শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সভায় দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সংসদে ও বাইরে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতের দায়িত্বশীল ভূমিকার বিষয় তুলে ধরেছেন বিরোধীদলীয় নেতা। ভালো কাজে সরকারকে সহযোগিতা এবং জনস্বার্থবিরোধী কাজে গঠনমূলক ও নিয়মতান্ত্রিক বিরোধিতা—এই নীতিতেই জামায়াত থাকবে।
তিনি জানান, বাংলাদেশের রাজনীতি, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে জামায়াত আমিরের সঙ্গে সম্পাদকদের প্রশ্নোত্তর ও মতবিনিময় হয়েছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে রোববার ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকে যে নীতি নির্ধারণ হয়েছে, সেটিই জামায়াতের নীতি বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সংসদে উন্নয়ন বরাদ্দ, বিলিবণ্টন ও বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বিরোধীদলীয় এমপিদের বৈষম্যের শিকার হওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য ও প্রবাসীদের অধিকার নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে ১১ দলীয় ঐক্য ও জামায়াত কোনো ছাড় দেবে না উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের রায়ের সঙ্গেই তারা থাকবেন। সংসদে সমাধান না হলে জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ যেখানে থাকবে, জামায়াতও সেখানে থাকবে।
জামায়াত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আব্দুল হালিম, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম প্রমুখ।
রত্না বাউরী
মন্তব্য করুন: