সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেলপথ নির্মাণের দাবিতে স্মারকলিপি পেশ
সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মোহনগঞ্জের মধ্যে সরাসরি রেলপথ নির্মাণ ও সম্প্রসারণের দীর্ঘদিনের দাবি জানিয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ‘সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেলপথ বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ’। ২৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) বেলা ৩টায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক তারেক আল মঈন, প্রধান পৃষ্ঠপোষক আশিকুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহমেদ, উপদেষ্টা বিজন সেন রায় ও বিনোদ রঞ্জন তালুকদার স্মারকলিপি হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা হাওড়বেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলায় প্রায় ২৭ লাখ মানুষের বাস। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এখানকার বাসিন্দারা মূলত সড়ক ও নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। সুনামগঞ্জ থেকে মোহনগঞ্জের ১০৮ কিলোমিটার নদীপথ অতিক্রম করতে সময় লাগে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা। অন্যদিকে সিলেট থেকে মোহনগঞ্জের ১৪৯ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে প্রায় সাড়ে ১২ ঘণ্টা ব্যয় হয়। বিশেষ করে বর্ষা ও হেমন্তকালে দুর্গমাঞ্চলের মানুষদের রাজধানীতে পৌঁছাতে ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ভোগান্তি পোহাতে হয়।
এ ছাড়া ১৯৫৬ সালে নির্মিত ৩৫ কিলোমিটারের সিলেট-ছাতক রেলপথের আহমদাবাদ স্টেশনটি ২০১০ সাল থেকে বন্ধ থাকায় ছাতকের সাথে সিলেটের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
সংগ্রাম পরিষদের নেতারা জানান, টাঙ্গুয়ার হাওড়, টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প, নীলকণ্ঠ/শহীদ সিরাজ লেক, শিমুল বাগান ও বারিক টিলা দেখতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পর্যটক আসেন। কিন্তু যোগাযোগের অনুন্নত অবস্থার কারণে পর্যটক ও স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
তারা উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত এই রেলপথ চালু হলে হাওড়াঞ্চলের ধান, মাছ ও স্থানীয় কাঁচামাল সহজে এবং সাশ্রয়ী খরচে দেশজুড়ে পরিবহন করা সম্ভব হবে। এর ফলে পর্যটন খাতের অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটবে, সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার সামগ্রিক অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। জনদুর্ভোগ নিরসন ও অর্থনৈতিক চাকা গতিশীল করতে দ্রুততম সময়ে প্রকল্পটি অনুমোদনের জোর দাবি জানান তারা।
প্রীতম দাস/ নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: