নবীগঞ্জে কুশিয়ারা নদী থেকে অবাধে চলছে বালু লুট
নবীগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর বালু মহাসড়কের কাজে ব্যবহারের নামে হরিলুট হচ্ছে। হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জে ১০ থেকে ১৫টি স্থানে প্রতিদিন কয়েক লাখ ঘনফুট বালু তোলা হচ্ছে। আগে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বালু উত্তোলন করত। গত বছর সরকার পরিবর্তনের পর প্রতিষ্ঠানটির অনুমতি বাতিল হয়। এখন কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে বালু তুলে বিক্রি করছে। এতে নদীভাঙন বাড়ছে এবং বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি। সরকার বঞ্চিত হচ্ছে রাজস্ব থেকে।
স্থানীয়রা জানান, কুশিয়ারা নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। বালু উত্তোলনকারীদের দাবি, তারা অনুমোদন নিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্দিষ্ট সীমানা থেকে উত্তোলন করছেন। তবে উপজেলা প্রশাসন বলছেন নবীগঞ্জে বালু উত্তোলনের অনুমতি নেই কোনো প্রতিষ্ঠানের।
নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে তালুকদার এন্টারপ্রাইজ, জামারগাঁও এন্টারপ্রাইজ, এমরান এন্টারপ্রাইজ ও ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ। এ ছাড়া দুলাল মেম্বার, সাজ্জাদ, নুরুল আমিন, সাজুসহ অনেকে বালু উত্তোলনে জড়িত। নদীতীরে সাদা বালু অবৈধভাবে বিক্রি করায় গড়ে তোলা হয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। দীঘলবাক গ্রামে ও দুর্গাপুর, পাহাড়পুর, পারকুল মধ্যবর্তী এলাকায় নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব স্থানে কাজ করছেন শতাধিক শ্রমিক। দীঘলবাক, তাজাবাদ এলাকায় বালু উত্তোলন করে বড় নৌকায় তোলা হয়। পরে এলাকার কৃষিজমিতে ও নদীর পারের কয়েকটি স্থানে স্তূপ করে রাখা হয়। এ ছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে পিটুয়া গ্রামের কাছে কয়েকটি স্থানে স্তূপ করে সাদা বালু রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোজাহিদ মিয়া বলেন, অবৈধভাবে দীর্ঘদিন ধরে এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করা হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বালু তোলার কারণে নদীর পারের ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। অনেক স্থানে ঘরবাড়িতে ধসও দেখা দিয়েছে। এখনই এসব বন্ধ করা উচিত।’
ওয়াহিদ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে, তারা অবাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলনের অনুমতি পেয়েছে। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ব্যবহারের জন্য ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। সেই বালু বিক্রি হচ্ছে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় মাটি ভরাটের জন্য। ওয়াহিদ এন্টারপ্রাইজের মালিক ওয়াহেদুল করিম চৌধুরী বলেন, তারা বাণিজ্যিকভাবে বালু তোলেন না। অবাণিজ্যিকভাবে তুলে মহাসড়কের কাজে দিতে চেয়েছিলেন। চাঁদাবাজ চক্রের জন্য তা করতে পারছেন না। বালু তোলায় তিনি অনুমতি নিয়েছেন। তবে কত হাজার ঘনফুট বালু তুলেছেন তা বলতে রাজি হননি।
হবিগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ইউসুফ আলী জানান, ওয়াহিদ এন্টারপ্রাইজ তাদের কাছ থেকে পরিবেশের বিষয়ে কোনো ছাড়পত্র নেয়নি। বালু উত্তোলনকারী কেউ আবেদন করেনি।
হবিগঞ্জ জেলা বাপার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জুল সোহেল বলেন, নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি সৃষ্টি করছে। এখন এর প্রভাব তেমন একটা না পড়লেও ভবিষ্যতে বড় প্রভাব পড়বে। পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন অভিযান চালিয়ে কুশিয়ারা নদীতীরে ১৫ হাজার ঘন ফুট বালু জব্দ করেন। কুশিয়ারা নদীর নবীগঞ্জ উপজেলায় বালু উত্তোলনের অনুমতি নেই কোনো প্রতিষ্ঠানের। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, তাঁকে দুটি পক্ষ বালু উত্তোলনের বিষয়ে অবগত করেছে। তাদের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: