হবিগঞ্জে উদ্ধার ১৩৭ সাপ: বিপাকে বন বিভাগ, কোথায় হবে ঠাঁই?
একসাথে ১৩৭টি বিষধর ও নির্বিষ সাপ কোথায় অবমুক্ত করা হবে, তা নিয়ে চরম দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছে হবিগঞ্জ বন বিভাগ। এত বিপুল সংখ্যক সাপ একসাথে অবমুক্ত করলে মানবকুলের জন্য হুমকি তৈরি হবে কি না, তা নিয়েও চলছে নানা আলোচনা।
জানা যায়, গত ২নভেম্বর সকালে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফাউন্ডেশনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্য রবি কাস্তা জেলার বিভিন্ন উপজেলার ঘরবাড়ি ও লোকালয় থেকে সাপগুলো ধরে আনেন। পরে তিনি সাপগুলো হবিগঞ্জ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেন এবং রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে অবমুক্ত করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
কিন্তু পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে রেমা-কালেঙ্গায় সাপগুলো অবমুক্ত না করে হবিগঞ্জ বন বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।
বর্তমানে বন বিভাগের হেফাজতে থাকা সাপগুলোর মধ্যে রয়েছে- পদ্ম গোখরা ৭০ টি,খৈয়া গোখরা ৬০ টি,দাঁড়াশ ৫ টি,মা দাঁড়াশ ১ টি, মা খৈয়া গোখরা ১ টি, ডিম ৫টি। সর্বমোট - ১৩৭ টি।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দাঁড়াশ ছাড়া বাকি সবগুলো সাপই অত্যন্ত বিষধর। তাই এতগুলো বিষধর সাপ একসাথে কালেঙ্গা বা সাতছড়ির মতো ছোট বনে অবমুক্ত করা হলে তা লোকালয়ের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ বন্যপ্রাণী কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন বলেন, বিষধর সাপগুলো বর্তমানে আমাদের জিম্মায় রেসকিউ সেন্টারে নিরাপদে রয়েছে। আমরা দেশের বিভিন্ন সাপ বিশেষজ্ঞ ও বন্যপ্রাণী গবেষকদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। তারা পরামর্শ দিচ্ছেন সাপগুলোকে ভাগ করে দেশের বিভিন্ন বড় সংরক্ষিত বনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবমুক্ত করতে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত নির্দেশ পেলেই আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।
অপরদিকে চুনারুঘাট বন্যপ্রাণী জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্য চিত্র রঞ্জন বর্মন বলেন, এতগুলো বিষধর সাপ একসাথে ছোট কোনো বনে অবমুক্ত করলে লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হবে। সাপগুলো খাবারের খোঁজে লোকালয়ে চলে আসতে পারে। তাই এগুলোকে সুন্দরবন বা পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো বড় ও গভীর বনে, অথবা বিভিন্ন জলাশয়ে ভাগ করে অবমুক্ত করাই উত্তম হবে।
বর্তমানে সাপগুলো অবমুক্তের অপেক্ষায় রেসকিউ সেন্টারে রাখা হয়েছে। বন বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে স্থানীয়রা।
রত্না বাউরী/প্রসি-২৬
মন্তব্য করুন: