তালাক দিয়ে সেই নারীকে দেনমোহরের ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করলেন রনি
নিজের স্ত্রী দাবি করে এনসিপিতে যোগ দিতে চেয়ে আলোচনায় আসা সেই নারীকে আইন অনুযায়ী তালাক দিয়ে দেনমোহরের ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। ওই নারীকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে অতীতের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে এ তথ্য জানান তিনি।
ফেসবুক পোস্টে রনি দাবি করেন, ইউনূস সরকারের সময়ে ইউটিউবার ইলিয়াসের প্ররোচনায় ওই নারী হঠাৎ একদিন তার অফিসে উপস্থিত হন। এ সময় তিনি ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকেন। পুলিশ ওই নারীর কাছে বিয়ের প্রমাণ দেখতে চাইলে তিনি কাগজ থাকার কথা বললেও তা দেখাননি। পরে পুলিশ তাকে অফিস থেকে নিয়ে যায়। তবে নিচে নেমে তিনি পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে চলে যান বলে দাবি করেন রনি।
এরপর ওই নারী তার ধানমন্ডির বাসায় যান। এ ঘটনায় তিনি শাহবাগ থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ওই নারীকে থানায় নিয়ে আসে। সেখানে ওই নারীর আত্মীয় পরিচয়ে দুজনকে আনা হয়। পরে থানার কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করে তার কাছ থেকে কথিত কাবিননামার একটি কপি সংগ্রহ করেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন রনি।
রনি জানান, আইনজীবীদের পরামর্শ ছিল, কাবিননামার যথার্থতা ও এর পেছনের ঘটনা আদালতে প্রমাণ করতে গেলে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। তাকে আদালতে নিয়ে জিম্মি করার চেষ্টা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন আইনজীবীরা। এ পরিস্থিতিতে কাবিন অনুযায়ী তালাক ও দেনমোহরের ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করে বিষয়টির ইতি টানার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, পুরো ঘটনা বর্ণনা করে শাহবাগ থানায় মামলা করেন এবং তালাকের নোটিশ দেন। একই সঙ্গে কথিত কাবিননামায় উল্লেখ করা দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করেন। তবে এরপরও ওই নারীর পক্ষের লোকজন একাধিকবার যোগাযোগ করে তার সামাজিক সম্মানকে জিম্মি করে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন রনি।
ওই নারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা না করার কারণ ব্যাখ্যা করে রনি বলেন, তার আগের সংসারের বিবাহযোগ্য মেয়ে ও কিশোর ছেলের কথা বিবেচনা করে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নেন। তার দাবি, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও আপনজনেরা শুরু থেকেই পুরো বিষয়টি জানতেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা তার পাশে ছিলেন।
পোস্টে রনি আরও অভিযোগ করেন, ওই নারী ও ইউটিউবার ইলিয়াস তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে একটি ভিডিও তৈরি করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন। এ ছাড়া বনি আমিন নামের আরেক ইউটিউবারকে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেন ওই নারী। এসব ঘটনার পর আইন অনুযায়ী তালাক কার্যকর ও রেজিস্ট্রি হওয়া এবং ওই নারী তার দাবিকৃত টাকা পেয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি নিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হন বলে দাবি করেন তিনি।
পোস্টের সঙ্গে ওই নারীর সঙ্গে তালাকনামা এবং ২০২৫ সালে শাহবাগ থানায় করা একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) কপি প্রকাশ করেছেন গোলাম মাওলা রনি।
প্রসঙ্গত, গত ৫ নভেম্বর ফারজানা আফরোজ নামে এক নারী গোলাম মাওলা রনির সঙ্গে বিয়ের কাবিননামা প্রকাশ করেন। ওই কাবিননামায় ২০২২ সালের ১৩ মে তাদের বিয়ে হয়েছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে এর আগে রনি ওই নারীকে স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করেছিলেন। অন্যদিকে, ফারজানা দাবি করেন, রনি তাকে বিয়ে করেছিলেন এবং তার শাশুড়িও কয়েক মাস তার সঙ্গে ছিলেন।
নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: