সিলেটের নগরজীবনে ফুটল স্বচ্ছতার প্রথম ফুল
সকালটা ছিল অন্য রকম। কুয়াশার আড়ালে ঝলমল করছিল সিলেটের সূর্য, যেন সে-ও জানে—আজ শহর বদলে যাবে। বছরের পর বছর ধরে দখলের ভারে নুইয়ে পড়া ফুটপাত আজ যেন ফিরে পেয়েছে নিজের শ্বাস, নিজের হাঁটাচলা।
রোববার সকাল থেকেই সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন আর পুলিশ বাহিনীর সমবেত পদচারণা। হাতে নেই অস্ত্র, আছে শৃঙ্খলার আহ্বান। ঘোষণায় বলা হলো—আজ থেকে আর কেউ ফুটপাতে বসবে না, কেউ পথের দখল নেবে না।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, দিনের শেষে দেখা গেল—ফুটপাতগুলো মুক্ত, পথচারীরা হাসিমুখে হেঁটে যাচ্ছে। স্কুলছাত্রীরা হাত ধরে হাঁটছে সেই পথে, যেখানে গতকালও ছিল ভিড় আর বিশৃঙ্খলা। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে এক অদ্ভুত শান্তি—যেন নগরের অন্তরে এক নতুন কবিতা লেখা হচ্ছে।
সাতটি পয়েন্টে একযোগে চললো অভিযান; সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে দুই শতাধিক পুলিশ সদস্যের ব্যস্ত পদচারণা। জিন্দাবাজার থেকে শেখঘাট—সবখানেই একই দৃশ্য, শৃঙ্খলার নতুন মানচিত্র।
অবশ্য এই গল্প শুধু উচ্ছেদের নয়, পুনর্জন্মেরও। লালদিঘীরপারের হকার মার্কেটের দরজায় অপেক্ষা করছে এক নতুন আশ্রয়, যেখানে কর্মজীবী মানুষগুলো ফিরে পাবে তাদের প্রাপ্য জায়গা, সম্মানের ছায়া।
বিকেলের শেষে যখন সরকারি অগ্রগামী বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের দেখা গেল ফুটপাত ধরে হেসে হেসে হাঁটতে, তখন মনে হলো—এক দিনের অভিযান নয়, এটি এক শহরের জাগরণ।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: