সত্তরে ইকবাল কাগজী
প্রত্যেক ব্যক্তিই তাঁর নিজসময় বা কালের মানুষ। এদিক থেকে আজকে যে আমরা পালন করছি ইকবাল কাগজীর জন্মদিন, এটা এই মানুষটার খোলস পাল্টনো তথা সময়ের একটা উদযাপন বলে বিবেচিত হতে পারে। কেউ বলতে পারেন, সেটা আবার কীরকম! এখানে আমরা তাঁকে বলবো, চিন্তার জগতে একবার যে প্রবেশ করেছে, তাঁর স্থির থাকার উপায় নেই। আমাদের ইকবাল কাগজী নিজেও যেহেতু একজন অগ্রসর মানুষ ও কবি, মনের শরীরটা ত্যাগ না করে- তাঁর সে প্রজ্ঞামার্গ লাভ ছিল কঠিন বৈকি।
তাহলে কথাটা দাঁড়াচ্ছে, তাঁকে নিয়ে কিছু বলতে গেলে তাঁর সে-ই অতিক্রান্ত সময় এবং বিকাশমান চিন্তার একটা পাঠও আমাদের জন্য জরুরি। মনে পড়ে নীৎসের কাছে ভূজঙ্গ ছিল একটা প্রতীকভাষ্য, একইভাবে এই মানুষটি কি না এখানে এই সত্তরেও নিজেকে বদলে জীবনযাপনে ধরে রেখেছেন তাঁর উন্নতি। এই উন্নতি তাঁর আত্মখনন এবং মননের তা বলা বাহুল্য। সে কারণে তাঁর মধ্যে একটা খোলসমুক্ত নবীনতা এবং এর পরিবর্তিত ছোঁয়া আমরা এখনও দেখতে পাই। সেটা তাঁর বাগবিস্তারে তো বটেই, বাক্যে তাই তপ্ত দুপুর হারিয়ে যায়নি, না তাঁর নাগরিক আবেদন বিকেলের নরম আলো হয়ে গেছে। অন্তত এই বৈঠকে তাঁর সে রহস্যের একটা উন্মোচন বা খোঁজ আমরা করে নিতে পারি।
যাইহোক বৈঠকী এসব চর্চা যদি আমাদের সাহিত্য চর্চার একটা বিন্দু এটা হয়, যেমনটা আমরা একে এর বাইরে কিছু মনে করি না। বিস্যুদবারের বৈঠক এবার সে কাজ করছে এবং আমরাও এসেছি এর সবটা মেজাজ নিয়ে বলতে পারি। তাহলে সুযোগ যখন পেয়েছি, মান্যজনেরা একটা বাড়তি দায়ও চাপিয়ে দিয়েছেন, যতটা সম্ভব সেদিক থেকে আটপৌরে এই মুহূর্তভাষ্যে আমি কিছু বলতে চেষ্টা করবো। জানি এর মধ্যে উৎসবের এই আয়োজনে অনেক কথা হয়ে গেছে। সময় ফুরিয়ে গেলেও আশা- এই উদ্যোগ আর কথাটুকু থেকে যাবে অনেকদিন। এখানে আমরা সে স্মৃতিসঞ্চয়নের দিক যাচ্ছি না তা তো নয়। আগেই বলেছি ইকবাল কাগজী কবি এবং এটা তাঁর বড় পরিচয়। তবে কাগজী কেন্দ্রীক এই আলোচনায় কেবল এই একটা মাত্র অধ্যায়- তিনি কবি বা লেখক এতে স্থির করা ঠিক হবে না। এখানে তিনি সাহিত্যিক যে জীবন কাটিয়ে গেছেন, হয়ে উঠেছেন অতীত থেকে বর্তমানের সত্তুরে কাগজী, এখানে আমাদের দায় হবে এর সবটা নিয়ে তাঁর একটা সুলক সন্ধান। এখানে বলতে চাই, তাঁর প্রিয় কাজের ক্ষেত্র যে সাহিত্য- কবিতা ও চিন্তাচর্চা, সেখানে তিনি লেখক- কবি ও বুদ্ধিজীবী বটে; আমার এই আলোকপাত ও বক্তব্য যদি সেদিক থেকে তাঁর সত্তা ও বিকাশের একটা ভাষ্য নিয়ে হাজির হয়, তাহলে বলতে অসুবিধা কোথায় যে, কাগজী ভাই আসলে আমাদের জীবনই কাটিয়ে গেছেন!
এই মানুষটি সম্পর্কে আমি ৭০ বছরের না পারি, অন্তত এর অর্ধেক- ৩৫ এর মতো সময়কালের একটা রেখাচিত্র মনে করি সহজে বলে দিতে পারবো। সমস্যা হলো সেখানে আমার স্রোতা ও পাঠককুলকে এর মধ্যকার ফাঁকফোকর গুলো পুরন করে নিতে হবে। একাডেমিয়ান জগতে সেটা হয় আকসার, যেমন- ইতিহাস চর্চার মতো বিষয়ে সেটা গ্রাহ্য বলে জানি। এখানে সে ভরসার মতো লোকেরা নেই তাও নয়। এখন এদিকটা মনে রেখে সে সময়কার কিছু কথা বলাই যায়। মাননীয় স্রোতাদের আমি আবারও বলি- সে অধ্যায় তথা সময়কালের এই চাক্ষিক সাক্ষ্যটা কিন্তু আমার ৩৫ বছরের। তাহলে এখানে কাগজী ভাই আছেন, আছে তাঁর সময় এবং আমরাও। তাই এসব কথা যা আমি এখন বলতে চাইছি, এটা কেবল একার কাগজী ভাইয়ের নয়, ছিল না- তা আগেও বলেছি। সেটা যে অংশত আমাদেরও তা ভুলে যেতে দিতে চাই না। স্বভাবত কাগজী ভাই ও আমরা যে সময় যাপন করেছি, এর বয়ানভাষ্য কালের একটা সাংস্কৃতিক পুঁজি ও উত্তরাধিকার বলে স্বীকৃত হতে পারে বলে মনে করি।
এবার এখানে আমি বলতে চাই কবে দেখা হয় আমাদের, সেটা। কাগজী ভাই নিজে এটা বলার মতো নন, মনে রাখার দায়ও তাঁর ছিল- এমনটা দেখি না। তবে আমার আছে এবং সেরকম সংসর্গের এক অনুভূতিতে আমি কাগজী ভাইদের মতো অনেককে তখন খুঁজে বেড়িয়েছি। এরকম এক সময়কালের কথা এখন মনে পড়ছে, সেটা ছিল ৯০ এর নভেম্বর। আমার খালা আমিনা'র তখন সুনামগঞ্জে বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তাই এই জেলা শহরেও আমার অধিক আসা যাওয়ার একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়। এই সময়টাতে আমি কতটা সাহিত্যের ছিলাম এখন বলতে পারবো না, তবে তার চরিত্রদের খোঁজ আর সাক্ষাতে যে বেজায় কতক চুলপাকা হয়ে উঠেছিলাম তা স্বীকার না করা হবে নিজের প্রতি অন্যায়। বলতে হয় এই সময়টাতে আমি প্রথমবারের মতো কাগজী ভাইকে দেখি। তখন এই দেখাতে আমার চমৎকৃত হবার মতো কিছু ছিল বা দেখেছিলাম এখন মনে পড়ে না। অবশ্য দেড়-দুবছর পর যখন তাঁকে দেখি, তখন ভিন্ন একটা ছবি মনে হয় দেখেছিলাম। আর এখন- বলতে গেলে এর থেকে তাঁর দূরত্ব দাঁড়িয়েছে খুব বেশি নয়। এছাড়া আমরা তো জানি, বাঙালি যে কবিবংশের উত্তরাধিকার বহন করে তা নতুন কোনও সংবাদ নয়। কে নয়- এই প্রশ্নটা সামনে রেখে যদি বলি, তবে এখানকার সবাই অল্পবিস্তর কবি এটাও স্বীকার্য। উঠতি যৌবনে কি না এই সাক্ষ্যটা ভালোই খেয়াল করা যায়। অবশ্য পরবর্তী সময় সে যৌবন তল তরঙ্গ- স্রোতটা থাকে না, কেন জানি ফিকে হয়ে আসে। যে কজনের থাকে, তারা হয় গিয়ে কবি এবং ইকবাল কাগজী। বাঙালির এই ভূতগ্রস্ততা আমার ছিল না তা নয়, একটু জাগৃতি বলি বা স্ফুরণ- এই ভরসাকে পুঁজি না করে তখন কারো উপায় আছে? দুই লাইন লিখতে হয়, কবি কবি চেহারা নিয়ে হাঁটতেে হয়; বয়স যাইহোক এরকম একটা সময়ে সাক্ষাৎ পেয়েছিলাম আমি এই মানুষটির। দেখেছি- যতটা কবি, সমগ্রে ছিল তাঁর ততটাই- অহংকার। সুরমা দিয়ে অনেক পানি বয়ে গেছে, কাব্যহিংসা নিয়ে তাদের অনেককে হারিয়ে দিয়েছে কালের করাল গ্রাস; তাদের নামগন্ধ আর নেই। এখানে এখনও রয়ে গেছেন- কাগজী, তাঁর মতো নিঃসঙ্গ এবং একা।
তবে কি সেসব নামযশহীন কবিরা ছিলেন না কালের পাথরখণ্ডের অভেদ্য অংশীদার? অবশ্যই ছিলেন এবং তাঁদের সে পরিসর বা সীমানা ছোট ছিল না। তবুও সময়- তার নিজের গরজে এখানে কেবল একটাই মুখ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে; সেটা- কবি ইকবাল কাগজীর। এখানে কাগজী কোনও ভাস্কর্য নয়, তাঁর সজীব সত্তা থাকে অর্গানিক একটা বৌদ্ধিক টাইপ দান করেছে। ভাষা হয়ে উঠেছে তাঁর নিজস্ব শ্রমক্ষেত্র। সমস্যা হলো এই মানুষটি যখন বলেন, 'মানুষ ভাষা দিয়ে চিন্তা করে।' তখন বোধগম্য কারণে তাঁর হাতিয়ার- ভাষা ছাড়া আর কী- বুঝতে অসুবিধা হয় না। এছাড়া এখানে শাস্ত্রজ্ঞানের একটা অনুশাসনে তাঁর উপনীত হওয়াও আমরা লক্ষ করি। যে মানুষটি উঠতি যৌবনে কমিউনিস্ট হতে চাইতেন, এখন কেবল বড়জোর সমাজতান্ত্রিক, সে-ই কবি আবার তাঁর ভাষণে শুধু পৌরাণিক হন কী করে? স্বভাবত মিথ ও রিয়েলিটি- পুরাণ ও ইতিহাসে যিনি প্রচ্ছন্ন অর্থে এখনও পুরাণনির্ভর, তাঁর কাছে ইতিহাসের ভিন্নপাঠ আশা করা যায় না। বলি- এখানে আমরা সবসময় থেকে গেছি পৃথক এবং দুই মেরুর। তবে কাগজী ভাইয়ের কাগজীপনা ছিল অবশ্যই তাঁর সে ভাষাচর্চায়, তিনি এখানে- কবি; আজন্ম সাংবাদিক এবং আমাদের স্বস্তি না দেওয়া এক বুদ্ধিজীবী বটে। ('বুদ্ধিজীবীর ভূমিকা হলো কর্তৃত্বকে শক্তিশালী করা নয়, বরং তাকে প্রম্ন করা।' -এডওয়ার্ড সাইদ) তাই এখানে তিনি কতটা নতুন মানুষ চাইতেন জানি না, তবে নতুন সমাজ- সমাজতান্ত্রিক সমাজ চাইতেন ঠিকই। কিন্তু এর সাহিত্যিক একটা বাস্তবতা কবির সে পৌরাণিক অবচেতনা নির্মাণের সপক্ষে হবে- এটা বলতেই হবে অদ্ভুত। তিনি যত রোমান্টিকই হোন, এতে আপত্তি দেখি না; তাঁর পুরো শক্তিমত্তার ভরকেন্দ্র ছিল ভাষার শাসন। কেননা এখানে স্রেফ এই আপাদমস্তক সমালোচক মানুষটির নাম- ইকবাল কাগজী।
পরবর্তীতে আমি যখন কলেজে পড়ি, এই সময়টার দেখাসাক্ষাৎ পর্বটা ছিল আমার জন্য ভিন্ন; বুকে তখন সাহসও লক্ষ করতে পেরেছি। সেই সাহস নিয়ে যখন কাগজী ভাইয়ের সাথে কথা বলি, তখন লক্ষ করি এই মানুষটি কবি এবং পোচপাচের এক মানুষও বটে। এক দুপুরে আমি সেটা প্রথম খেয়াল করি এবং জায়গার নামটা ততদিনে জেনে নিয়েছি- জামাইপাড়া। সেদিনকার আমাদের এই একসাথে হাঁটার সময়সীমা ছিল ৫মিনিটের। তখনকার কথাটা এখন আবারও ভাবনার অনুবাদ থেকে বলি, মনে হয়েছিল এই মানুষটা ভাষা ও শিল্পের আত্মতৃপ্তি ও মস্তবড় অহংকার ছাড়া কিছুই বহন করেন না। আবার এই মানুষটা কি না ঢেউ তুলে হাঁটেন! বয়স তো তাঁর এখন সত্তর, তবুও সে অবশিষ্টাংশ মনে হয় অলক্ষণীয় নয়। এখানে এবার একজন মুস্তাফিজ ভাইয়ের কথাও স্মরণ করি। কাগজী ভাইসহ আমরা তাঁর বাসায় কম আড্ডা দেইনি। তিনি তত কবিতার না হলেও রাজনীতির মানুষ ছিলেন মন হয়। তাঁর বাসাতেই মনে পড়ছে আমি প্রথম দেখি কাগজী ভাইয়ের কবিতার বই- 'নষ্ট কুসুমের কষ্ট'। এটা কাগজীর প্রথম প্রকাশিত বই বটে, যদিও ততদিনে তাঁর সাহিত্যজীবনের ভূমিকা বা পরিসর কম দিনের ছিল না। বলতে গেলে এই উদ্যোগটা ছিল বিলম্বিত এবং এরকম পংক্তিসমূহ বা ফুলঝুরির একটা পাঠ। মনে পড়ে আমি তখন কাগজী ভাইয়ের পীড়াপীড়িতে এর মৌখিক একটা পাঠ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলাম। আমি উজ্জ্বল-খলিলকে তো আগেই পেয়ে গিয়েছিলাম। এর মধ্য একটা সময়ে সুনামগঞ্জে শুরু হয় স্বজনপর্ব। বাড়িতে এলে আমি আর কোথায় যাই? সেটা জেলা শহরে এবং আজও এর ব্যত্যয় খুব একটা হয়নি। তখনও তাই ঢু মারতাম এখানেসেখানে; স্বজনঅফিসও বাদ যেত না; দেখা হতো কাগজী ভাই ও ফোরকান ভাইদের সাথে। কাগজী ভাই তখন কী লিখতেন সেটা বলা এখন আমার দ্বারা অসম্ভব, বিভিন্ন রঙে প্রকাশিত তাঁর কবিতা যদি তখন পড়ে থাকি, সেটা ৫-৭টির বেশি হবে না। ততদিনে কবিতা নিজে থেকে আমাকে ছুটি দিয়েছে, দাঁড় করিয়ে দিয়েছে গদ্যের অরণ্যে। আমি তখন সমাজতন্ত্রকে সঙ্গী করে সমাজতত্ত্ব পড়ি, কীভাবে মিথনির্ভর নয় বরং সমাজতান্ত্রিক একটা বাস্তববাদ নির্মাণ করা যায়- এসব। কাগজী ভাইয়ের সাথে আমার সে আলাপ এখনও শেষ হয়নি। জেলা শহরে যাওয়া হয় রীতিমতো, নানার দোকান থেকে এখন আমরা জগৎজ্যোতি পাঠাগারে গিয়ে বসি। কুতর্কের এইসব মুহূর্তে কেবল আমরাই চিৎকার করি এমন নয়। এখনকার হিসেব ধরলে মাহিন ভাই আর আসে না, তাঁর জায়গায় পেয়েছি ফুলটাইম রাজনীতিক এবং পাঠক সদরুল ভাইকে। তিনি বামপন্থি মানুষ, কাগজী ভাইয়ের প্রিয় ভাগনাও বটে। এখানে আছেন আরও ক'জন, মুন্সী এখন নিয়েছে এর পুরোটাই দখল। এখানে অন্যদের সে সুযোগ বা জায়গা যদিও কম, তবুও মনে হয় না এরকম একটা মুহূর্ত আমাদের কাছে কখনও নিষ্ফলা ঠেকেছে।
এখানে তাঁর সাহিত্য নিয়ে কিছু বললে ভালো হতো। 'কাগজীর কারচুবি' তো মূল্যবান এবং সফল একটা কাজ। যদিও এটা লিখেছেন খৈয়ামের ভুতগ্রস্ত এক কাগজী। 'বাঙালি মুসলমান' নিয়ে আপাত কিছু বলছি না। এটার প্রুফ কপিটা মনে হয় পড়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। ব্যক্তিভাবে যতটা জানি, তিনি তাঁদের প্রতি বিরক্ত। 'পৌরবিপণিতে যাই' যে কবিতার বই, এটা সম্ভবত তাঁকে দিয়ে আমরা লিখিয়ে নিয়েছি। আমি 'কারচুবি'র পর তাঁর এই বইটাকে উচ্চ মূল্য দেবো। সন্দেহ নেই সাহিত্যিক যে জীবন এই মানুষটি যাপন করে গেছেন, সে তুলনায় তাঁর প্রকাশনা কম! তবুও যতটা যা আছে, আমরা তাঁর এসব পাঠ ও চিন্তার জার্নির বড় এক অংশীদার। আবার তিনি যা বলেন, আমরা এর বিচারহীন কেউ- তাও নয়। আড্ডায় কাগজী ভাইয়ের মন্তব্য থাকে পরিষ্কার, সমস্যা হলো এসব সাবজেক্টিভ থেকে খুব একটা দূরের নয়! (সৃজনশীল লেখক ঠিক শিশুর মতোই খেলায় মেতে ওঠে; সে একটি কল্পনার জগত সৃষ্টি করে, যেটিকে সে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে।' —সিগমুন্ড ফ্রয়েড) কেউ বলবেন, এটা তাঁর সত্তরের একটা সমস্যা। আমরা ততটা নিশ্চিত নই। কিন্তু এটা বলবো কাগজী ভাই এখানে প্রতিদিন পুরাণ ও নতুনের এক দ্বন্দ্বে কেমন স্থির থেকে গেছেন। তবে ভাষার শাসনে তিনি যতই বয়ানকারী হোন, তাঁরও একটা রাজনীতি ছিল- এটা স্বীকার করতে হবে। কিন্তু এখানে এটাও ভুলে গেলে চলবে না যে, তিনি ঘটনা ঘটানোর মানুষ ছিলেন না, তাই কী ঘটছে সেটা দেখিয়ে দেওয়া ছিল তাঁর দায়। আমরা বলছি, ঠিক আছে কাগজী ভাই; আপনি আমৃত্যু সেটা দেখিয়ে যান এবং লিখতে থাকুন।
আজ বাঙালি এই কবি ও তাঁর সময়ের ভাষ্যকার ইকবাল কাগজীর জন্মদিন। এটা হয়তো তত আলোকিত সময় নয়, তবুও বলবো কালের এক রাখাল হিসেবে তাঁর এই সম্মানটা ছিল প্রাপ্য। আমরা আজকের এই দিনে বিস্যুদবারের এই বৈঠক থেকে তাঁকে সালাম জানাই।
লেখক:
শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক
এ রহমান
মন্তব্য করুন: