বাউল বশির ও তাঁর আভিজাত্য
Led Bottom Ad

বাউল বশির ও তাঁর আভিজাত্য

এনামুল কবির

২৯/১০/২০২৫ ২৩:১৯:৫০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

বাউল বশির উদ্দিন সরকারও শেষপর্যন্ত আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। কতই বা বয়স হয়েছিল তাঁর! যতটা জানতে পেরেছি তাঁর জন্ম ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৪ খ্রী.তে। এই হিসেবে এই মানুষটি যে একটা প্রলম্বিত জীবন কাটিয়ে গেছেন এটা বলার সুযোগ দেখছি না। আমার কাছে বশির ভাইয়ের এই মৃত্যু বড্ড রকমের অকালের- তাড়াতাড়ি একটা চলে যাওয়া মনে করি।

বশির ভাইকে আমি প্রথম দেখি ৮৯ সালেই। উদাসী ভাইকে নিয়ে আমার একটা তাৎক্ষণিক লেখায় মনে পড়ে সে কথাটা কিঞ্চিৎ উল্লেখ করেছিলাম। আসলে এই সময়কালটা ছিল আমাদের স্থানীয় পর্যায়ের বাংলা ও তার বাউলিয়ানার ভিন্ন সময়। এখনকার দিক থেকে তো বলতেই হবে। কেননা তখন বাউল সংগীত বলি বা এমনতর চর্চা প্রতিটি গ্রাম ও পাড়ায় বেশ আঁচড়ে পড়তো। অন্তত আমাদের এতদঞ্চলের কথা যদি ধরি, তাহলে এরকমটা ছিল তখনকার এক সাংস্কৃতিক প্রাত্যহিকতা ও এর আত্মজীবনী। এখন সৌভাগ্যই বলতে হবে আমি সে সময় কীভাবে এসব দিনরাতের সাথে জুড়ে গিয়েছিলাম। তখন কেবল উদাসী ভাই নয়, এমন আরও অনেকে, যেমন- বশির ভাই সমেৎ বাউলের যে জগৎ ছিল, তাঁদের সাথে সাক্ষাৎ ও পরিচয়ের দিকে গিয়েছিলাম। বলতে গেলে এই সময়কাল থেকে আমি বশির ভাইকে চিনি এবং দেখেছি এই মানুষটির ভাবনার পোশাকটা ছিল পুরোই বাউলের। তখন সাংস্কৃতিক যে পাঠের ভেতর দিয়ে গিয়েছিলাম, খেয়াল করি বাউলিয়ানার এরকম এই ভিরেও এই মানুষটি কেমন অভিজাত হয়ে উঠেছিলেন। স্বভাবত এই সময়টাতে বশির ভাইকে আমাদের আলাদা করে চিনতে অসুবিধা হয়নি। এছাড়া এই মানুষটিকে দেখেছি ছিলেন অত্যন্ত পোশাক সচেতন, সুর ও উচ্চারণে অন্তর উজারি; বাউলের দৃশ্যমান উত্তরাধিকারে ছিলেন নিজের মতো এক চরিত্র। এখানে তাঁর মান্যতা ছিল লোককবির। বলতে গেলে সবটা মিলে তাঁর ছিল একটা নজর কাড়া ব্যক্তি-বৈশিষ্ট। বৃহত্তর সিলেটের যে গুণীজন- বাউল মহাজনেরা ছিলেন, এর বড় অংশের সাথে পরিচয় থেকে বলতে পারি, বশির ভাই ছিলেন কেবল পোশাকে নয়, গুণে ও মানে উন্নতশির এবং গ্রীক ভাস্কর্যের মতোই দেহসৌষ্ঠবের অধিকারী। এভাবে বশির ভাই ছিলেন পুরো অভিজাত বাউলের প্রতিকৃতি। এর জন্য শ্রেণিশাসনের পক্ষের কেউ ছিলেন এমন নয় এবং মৃত্যু অবধি এই নিজস্বতা- ভাবের মূর্তি বহন করে গেছেন। এখানে এই লোককবি- গীতিকারের সবটা মিলে জানি ৪টি গানের বই প্রকাশিত হয়েছিল। সমষ্টির ভিরে ব্যক্তি হিসেবে রচনা করে গিয়েছিলেন তাঁর কালের স্বাক্ষর। এসব প্রকাশের সাথে সাথে এককপি আমাকে না দিলে তাঁর তৃপ্তি ছিল না। কোথায় এর অনন্যতা- রসের অনুভব ও স্ফূর্তি- বলতেন সেটাও। তাঁর একটা গানের বইয়ের শিরোনামা ছিল- গুরুচরণে নিবেদন। (প্রকাশক- কালিকলম প্রকাশনা, ২০১৩) এটা কেবল কথা ও সুর-সংগীতের বিষয় ছিল না, যতটা বুঝেছি অন্তর থেকে এর ভাব ও ভক্তি উৎসারিত হয়ে উঠেছিল। এই স্মৃতির শরীরে আছেন প্রণম্য ফকির দুর্বিন শাহ, সাধকবাউল রশিদ উদ্দিন, বাউল কামাল উদ্দিন এবং শাহ আবদুল করিম; আছেন বাউলরত্ন কফিল উদ্দিন, পীর ইসলামউদ্দিন (গরিবউল্লাহ শাহ) এবং বাদ যায়নি দেওয়ান বাগীর শানও। (উল্লেখ্য যে, এই বইটা 'প্রিয় বন্ধুবর জনাব এনামুল কবিরকে' লিখে আমাকে দিয়েছিলেন। তাঁর সাক্ষরকৃত তারিখটা হচ্ছে, ০৩/০৭/২০১৩ ইং এবং এখানে যুক্ত ছিল তাঁর মোবাইল নম্বরটাও)


এখানে কফিলউদ্দিন স্মরণে লেখা তাঁর গানটি আমরা তুলে দিচ্ছি-

ভক্তের অন্তরে ব্যপিত নাম ধরেছ কফিলউদ্দিন

অসীম খেলা পাতিয়াছ ভক্তের অধীন রও চিরদিন।।

তপশী মহা তাপশ দূর করেছ দিলের কুলশ

জানিয়েছ নামের পরশ সর্ব ঘটে হয়ে বিলীন।।


তুমি নারীর সনে নারীর হয়ে পুরুষেরই রূপ লয়ে

প্রেমোর সরাফ পান করিয়ে রয়েছে প্রেমের অধীন।

বশিরউদ্দন তোমায় পাইতে দাগ লাগাইলাম কুলমান জাতে

এসো মম হৃদয়েতে দূর করে দাও বিপদ কঠিন।।

                                (গুরুচরণে নিবেদন, পৃ- ৪৬)


বশির ভাইয়ের বাড়ি ছিল পাগলার রায়পুরে, তিনি ছিলেন শান্তিগঞ্জেরই মানুষ। এই পাগলা তখন বাউলগান তথা বাউলিয়ানায় তার শ্রেষ্ঠ সময় অতিক্রম করছিল। বশির ভাই ছিলেন এই সময় থেকে উঠে আসা উঠতি এক বাউল ও শিল্পী। এখানে কি কেবল বাউল বশির সরকার ছিলেন একা ও একশ? এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। পাগলা ছিল তখন সাংস্কৃতিক চারনক্ষেত্র, যেখানে এই সময়টাতে ব্যাপক অর্থে- গড়ে উঠেছিল গানের স্কুল। তখন বাউলগুরু কপিল উদ্দিন সরকার আর কোথায় ছিলেন? বশির ভাই ও তখনকার অনেকে এই পাগলাতেই তাঁর সান্নিধ্যে ঈর্ষণীয় হয়ে উঠেছিলেন। বোধগম্য কারণে পাগলার এই উপস্থাপন ছিল স্থানীয় পর্যায়ের দিক থেকে সাংস্কৃতিক নেতৃত্বের। সম্ভবত তখন কোনও উপজেলা শহরেও এমনটা দেখা ছিল ভার। এখনও মনে হয় সে-ই অভিপ্রায় ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার শেষ হয়ে যায়নি। ফলে এর বাউল-বাদকের সংখ্যাটা দেখা যায় এখনও লক্ষ করার মতো। আরও কতদিন তাঁদের দেখা যাবে বলা যায় না। সবকিছুরই একটা ভাঙন আসে। এখন সে প্রবাহ ভাটির বলতে হবে। তখনকার সময়ে আমি যখন এই পাগলাতে যেতাম, দেখা হতো তার সে যৌবনের অংশীদার বশির ভাইদের সাথে; তখন ডাকবাংলার দেয়াল ঘেষে আমরা কত দাঁড়িয়েছি! কিন্তু একটা সময় আর সেটা হয় না, দেখি না বশির ভাইকে। এদিকসেদিক যে দেখা হতো তাও কীভাবে যেনো সীমিত হয়ে এসেছিল। কথা হলো তাতে বাউল বশির ভাই আর কত দূর যাবেন? গানের মানুষ, সোনা ফলানো তাঁর চারদিকে; তাই তাঁকে এবার ভাটিতে যাওয়া ছাড়া গত্যন্তর ছিল না। সন্ধানটা পেয়ে গিয়েছিলাম একটু দেরিতে। জেনেছি দিরাইয়ে এখন তাঁর বসবাস। দেখা হলে বললেন, তাঁর বাসায় যেতে হবে। বিভিন্ন সময় দিরাইয়ে যাইনি তা নয়, পুরনো আত্মীয়স্বজন আছেন; ২০০৬ সালে যখন গেলাম, হিসেবটা যাইহোক- ছিল অন্যরকম। মনে পড়লো বশির ভাইকে এবার খুঁজতে হবে। তাঁকে খুঁজে পাই মজলিশপুর আরামবাগ এলাকায় মসজিদের দক্ষিণে যে রাস্তা ভেতর দিয়ে গেছে, এর অনতিদূর- তাঁর বাসা। বাসার সামনে আবার দোকান, এটা চালান বশির ভাই ও তাঁর স্ত্রী রোকেয়া। বিস্তর আলাপ হলো এখানে, চা খেলাম; তারপর এক রাণী ফোন দিলে ফিরি তাদের বাসায়। মনে পড়ছে বশির ভাইয়ের এই বাসাতে কম যাওয়া হয়নি। মোবাইলযুগ যোগাযোগের ভিন্ন সুযোগ সৃষ্টি করলে সাক্ষাৎ না হোক প্রায়ই খোঁজখবর নেওয়া ও কথা হতো আমাদের। আসরে তো আমরা গান শুনতাম তাঁর, এবার একদিন ফোন দেই বশির ভাইকে, বলি- হাওরে তাঁর গান শুনে রাত কাটাতে চাই। সেটা অবশ্য ২০১১ সালের ঘটনা, ইঞ্জিনের নৌকা করে আমরা সেটা করেছিলাম। সেবার সিলেট ও সুনামগঞ্জের আমাদের তাবৎ বন্ধু-সুহৃদেরা ছিলেন।

একটা সময় সে রাত বৃষ্টির রাত হয়ে গিয়েছিল। ভোরের দিকে আমাদের নৌকা শান্তিগঞ্জের করচতলায় গিয়ে প্রবেশ করে। আমরা তখন সে রাতের মহিমা শুনতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। বাউল এই মানুষটি তখন দীর্ঘ এক বয়ান রেখেছিলেন। এটা ছিল অত্যন্ত দরদপূর্ণ এবং একে অন্যকে যেনো ভুলি না যাই- সে অঙ্গীকারের দাবি। তাই এর সংক্রাম ও আহবান সহজে ভুলে যাবার ছিল না। প্রথম আলোর খলিল রহমান থেকে এই রাতের মুহূর্তভাষ্য যখন দুইদিন পর তার পত্রিকায় 'হাওরের জলজলসা' শিরোনামে ছাপা হয়ে যায়, তখন সেটা অন্যরকম বয়ান ও অনুভূতি নিয়ে হাজির হয়। শেষ দিকে উল্লেখিত হয়েছিল এখনকার এই লেখককে উদ্ধৃত করে, 'জীবনটা ভালবাসা দিয়ে তৈরি।' আমাদের বশির ভাই এর কবছর পর রচনা করেছিলেন তাঁর 'প্রেমের তরী।' এটারও যথারীতি কপি তাঁর কাছ থেকে পেয়েছিলাম। বই প্রকাশ নিয়ে তাঁর উচ্ছ্বাস ছিল পিতৃসুখের। এই সময়পর্বটা ছিল অবশ্য বশির ভাইয়ের করিম শাহকে ঘিরে। তাঁর কাছে এই বাউল মহাজন ছিলেন বাউল সম্রাট। নিজের গান তাঁকে কমই গাইতে দেখেছি, যতটা যখন যা গেয়েছেন, গুরুকৃত্যে এসব ছিল হয় করিম, না হয় কপিল বা দুর্বিন শাহ'র- গুরুচরনে এসব ছিল তাঁর আরেক নিবেদনই। এই সময়টাতে আমাকে প্রায়ই বলতেন, এনাম ভাই, শান্তিগঞ্জে শীঘ্রই ফিরে আসছি। এবার বাড়িতে থাকা হবে। জানিয়েছিলেন, এখানকার সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারে যত্নশীল একটা ভূমিকা রাখা তাঁর ইচ্ছে। বাউলসংঘও করবেন। মনে হয় বশির ভাই ১৪/১৫ সালের দিকে নিজের বাড়িতে ফিরেও এসেছিলেন। কথা হয়েছিল এখন থেকে অনেক দেখা ও কথা হবে। যদিও এখানে খুব একটা স্থির থাকা হয় না বশির সরকারের। মাস দুইএক পর ফাঁড়ি জমান সিলেটে। এখান থেকে তাঁর পরিচিতির পরিসর বদলে যায় এবং গান নিয়ে হাজির হন এদিকসেদিক। শহিদ মিনারে তাঁর উপস্থিতি হয় নিত্য এবং তাঁর আভিজাত্য নিয়ে এসব ছিল নজরকাড়া। আড্ডাবাজ এখানকার এই বশির ভাইকে আমি খুব একটা চিনতাম না, স্বভাবত আগের মতো সময় কাটানোর ফুরসত ছিল সামান্যই। ভাবি অব্যাখ্যাত একটা দেয়াল আমাদের মধ্যে কি না এর থেকে নির্মিত হয়ে গিয়েছিল। সে দেয়াল আর ভাঙা হয়নি। তবে এই সময়টাতে মনে হয় বশির ভাই একটু রাজনৈতিক হয়ে গিয়েছিলেন। এটা দেখেছি যে, করিম শাহের বাড়িতে তাঁর একটা প্রভাব ছিল। কোনও কারণে মনে হয় এটা আর সেভাবে থাকেনি, একটু ক্ষুন্ন হয়ে গিয়েছিল। তাই সেখানে আর তাঁর মন পড়ে থাকতে সায় দেয়নি। এই সময়টাতে আমরা দেখি বশির ভাই দু্র্বিন শাহকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। মনে পড়ে এই নিয়ে তাঁকে একদিন আমি প্রশ্ন করেছিলাম। বশির ভাইও আমার কথাটা মনে হয় বুঝতে পেরেছিলেন। বলেছিলেন, আমি বাউল সম্রাটের সাথেই আছি। এবার মনেপ্রাণে চাচ্ছেন দুর্বিন শাহকে নিয়েও উৎসবটা হোক। অবশ্য সেটা হয়েছিল এবং সে যাত্রায় বশির ভাই ব্যর্থ হয়েছিলেন, সফল হননি এবং মন্থর ছিলেন এমনটা বলার সুযোগ ছিল না। জেলা শিল্পকলা অডিটোরিয়ামের সামনে যে ৪টি ভাস্কর্য এখন দেখি, এর একটি- দুর্বিন শাহ'র; দীর্ঘদিন পর হলেও এই গুনীজনকে সেখানে স্থাপন করা গেছে। এটা কম বড় কথা! এসব কথা যখন মনে হয়, বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, বশির ভাই তখন এই পৃথিবীকে বাউলের পৃথিবীর জন্য কতটা কাজ করে গেছেন। এখানে তাঁর একটা আভিজাত্যের সাথে অধিকারবোধের প্রশ্নটা ছিল আসলে মজ্জাগত। এই দিকটা বাদ দিয়ে বশির ভাইকে কখনও বুঝতে পারা যাবে না। উজানের যে করিমের কথা আমরা জানি, এখানে বশির সরকার তাঁর অনুবর্তীই ছিলেন; তাই নিজেও অল্পবিস্তর প্রেম ও দ্রোহে হয়ে উঠেছিলেন সমান্তরাল। মানুষই সবকিছু এবং সে এর পুনরাবৃত্তি ঘটায়। এখানে ইতিহাসের সঙ্গী হলে সে হয় নায়ক। আমরা দেখবো- করিমের সংক্রাম ও সাংস্কৃতিক একটা উত্তরাধিকারের দিক থেকে বশির ভাই কীভাবে সেটা যাপন করে গেছেন। জীবন যেখানে শিল্প, বাউল গান যদি এর বাইরের কিছু না হয়, তবে মানবপ্রেমিক বশির ভাই জীবনভর সে গানই গেয়ে গেছেন বলতে হবে। এখানে তিনি ছিলেন মানুষের সপক্ষে এবং বাউলশিল্পী।

একটা সময় সিলেটে গেলে আর এই মানুষটিকে সহসা দেখার সুযোগ ছিল না। কোনও এক কারণে মনে হয় নিজস্ব একটা আড়াল রচনা করে নিয়েছিলেন। এই কথাটা একদিন কোনও এক বাউলকে জিজ্ঞেস করলে জানতে পারি তাঁর শরীরটা আসলে তত ভালো নেই, বুঝতে পারি আমার সে অনুমান ছিল কতটা দুর্বল। বাস্তবে এই সময়টাতে জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতি উদযাপন শেষ করে বশির ভাই নিজ এলাকাতে গিয়ে ঢেরা বেঁধেছিলেন, যাপন করে চলছিলেন জীবনের শেষ দিনগুলো। তবে দুঃখজনক সংবাদ হলো সেটা আর পাগলাতে নয়, পূর্বপাগলার দামোদরতপিতে; সরকারি যে আবাসন- এখানে হলো তাঁর বাড়ি। জানতাম না যে, এরকম এক অভিজাত মানুষের কোনও বাড়িই ছিল না! সস্ত্রীক মৃত্যুপর্যন্ত সর্বহারা বশির ভাইয়ের বসবাস ছিল এখানকার এই লাল টিনের বাড়িটাতে।

কদিন ধরে বিভিন্ন মাধ্যমে বশির সরকারের অসুস্থ হবার কথা প্রচারিত হচ্ছিলো, সুহৃদেরা তাঁকে দেখে এসে তাঁর যথাযথ চিকিৎসার বেশ দাবি জানাতে দেখেছি। ইচ্ছে ছিল আমি নিজেও একটা সময় বশির ভাইকে গিয়ে দেখে আসি। সেভাবে ক'বার কথাও বলেছিলাম বাউল লালের সাথে; তখন ওদুদ দেওয়ান ও আবিদ উদ্দিনও থাকবেন এমনটাই ছিল কথা। কিন্তু আর হলো না। লাল ১৬ সেপ্টেম্বর'২৫ খ্রি. সকাল ৮.৩০ এর দিকে ফোন করে জানালো- আমাদের বশির ভাই আর মধ্যে নেই!

এখন বাউল এই মানুষটির মৃত্যু নীৎসের ভাষায় বলতে গেলে ছিল 'শ্বাশত প্রত্যাবর্তন'ই। তবুও মানুষের মধ্যে মানুষের প্রেমে যে মানুষটি ছিলেন নিবেদি, মানুষের বাইরে যাঁর কোনও গন্তব্য ছিল না, সে-ই সে বাউল ও রসের রাজা, অভিজাত- ভুবনজয়ী হাসির বশির ভাইয়ের মৃত্যুতে আমরা এখন সত্যিই শোকগ্রস্ত। আমরা বশির ভাইকে ভুলি কী করে!


লেখক

এনামুল কবির

শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক 

১৬/০৯/২৫

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad