বাঁশিতেই জীবনের হাসি কৃষ্ণ দাসের
Led Bottom Ad

বাঁশিতেই জীবনের হাসি কৃষ্ণ দাসের

রোদ্দুর ‍রিফাত, নিজস্ব প্রতিবেদক

১২/১১/২০২৫ ২০:৪৭:৪৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সবুজ ছায়ায় ঘেরা চা–বাগানের নির্জন দুপুর। হঠাৎ দূর থেকে ভেসে আসে মন কাঁদানো বাঁশির সুর। সেই সুরে থমকে যায় বাতাস, নড়ে ওঠে বাগানের পাতা।

সেই সুরের কারিগর কৃষ্ণ দাস—চা–বাগানের এক সরল মানুষ, যার জীবনের প্রতিটি ধ্বনি বাঁধা আছে বাঁশির মধুর তালে।


৪৫ বছর বয়সী কৃষ্ণ দাসের জীবনের গল্প যেন এক বাঁশির সুরের মতোই—কখনো গভীর, কখনো বিষণ্ন। শখের বসে শেখা সেই বাঁশিই এখন তাঁর জীবিকা, তাঁর নিঃশ্বাস, তাঁর সঙ্গী।


মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের শ্রীগোবিন্দপুর চা–বাগানে তাঁর ছোট্ট সংসার। দু’টি সন্তান, অল্প আয়ের জীবন, তবু মুখে হাসি। কারণ, তাঁর কাছে বাঁশির সুরই সুখের মাপকাঠি।


ছোটবেলায় ভারতের কলকাতায় জন্ম কৃষ্ণ দাসের। বাবা–মা মারা যাওয়ার পর একা পাড়ি দেন বাংলাদেশে। চা–বাগানের ছায়াতলে শুরু হয় জীবনের লড়াই। লেখাপড়ার সুযোগ পাননি, কিন্তু সুরের ভাষা শিখে ফেলেছিলেন মন দিয়ে। বাঁশির সুরই হয়ে ওঠে তাঁর বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা।


মাধবপুর লেকের ধারে প্রতিদিন বিকেলে তাঁকে দেখা যায়—চোখ বন্ধ করে বাঁশি বাজাচ্ছেন, পাশে দাঁড়িয়ে মানুষ মুগ্ধ হয়ে শুনছে। কারও চোখে জল, কারও মনে প্রশান্তি।


কৃষ্ণ দাস বলেন,“বাঁশি বাজানো আমার আত্মার আনন্দ। আগে মানুষ সুর শুনে খুশি হয়ে কিছু টাকা দিত। এখন কেউ টাকা না দিলেও আমি বাজাই। কারণ, বাঁশি আমার নিশ্বাস।”


ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক মহিমা পাল বলেন,“কৃষ্ণ দাসের বাঁশির সুর যেন হৃদয়ের গভীরে ঢুকে যায়। এমন মানুষদের দেখলে মনে হয়, শিল্প বেঁচে আছে এখনো।”


চা–বাগানের মানুষরা বলেন, পাড়ার যেকোনো অনুষ্ঠানে কৃষ্ণ দাস থাকেন বাঁশি হাতে। তাঁর সুরে আড্ডা জমে, মন ভালো হয় সবার।


কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, “বাঁশির সুর বাঙালি সংস্কৃতির এক অনন্য সম্পদ। কৃষ্ণ দাসের মতো মানুষরা আমাদের ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রেখেছেন। তাঁকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।”


সবুজ চায়ের পাতায় ভরা বাগানের মধ্যে প্রতিদিনই ভেসে আসে কৃষ্ণ দাসের বাঁশির সুর। সেই সুর যেন বলে যায়—দারিদ্র্য মানুষকে ভাঙতে পারে, কিন্তু হৃদয়ের সুরকে থামাতে পারে না।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad