নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে হবিগঞ্জে নৌ–র্যালি
বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাপী গ্যাস সম্প্রসারণ বন্ধ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকে যাওয়ার আহ্বান জানাতে হবিগঞ্জে নৌ–র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী ‘গ্যাস সম্প্রসারণ বিরোধী কর্মদিবস ২০২৫’ উপলক্ষে বুধবার (১৯ নভেম্বর) বেলা ১১টায় খোয়াই নদীতে পরিবেশ সংগঠন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এবং ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এই কর্মসূচি পালন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধরা হবিগঞ্জের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল।
এসময় বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন, খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল, ‘প্রাকৃতজন’-এর পরিচালক আয়েশা আক্তার, পরিবেশকর্মী আব্দুল হান্নান, ইশতিয়াক রহিম, তানভীর আহমেদ, নূরজাহান বিভা, সাইফুল ইসলাম, নাসরিন আলম, মো. রায়হান, তাওহীদ হোসেন তালহা, নৌকার মাঝি ফারুক মিয়া ও জেলে কনাই মিয়া প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, পৃথিবীজুড়ে জ্বালানির চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বাড়তি চাহিদা মেটাতে ফসিল গ্যাসকে বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। জলবায়ু রক্ষায় ন্যায়সঙ্গত জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিতের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে এখনই গ্রহণ করা জরুরি।
তারা আরও বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে প্যারিস চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে এবং সেই নীতিমালা জি–২০ ও কপ–৩০ সম্মেলনের সিদ্ধান্তে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
বক্তাদের দাবি, গ্যাস সঞ্চয়ের বর্তমান প্রবণতা পৃথিবীর জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারগুলোকে দ্রুত সমতাভিত্তিক ও টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের পথে বাধ্য করতে হবে।
বক্তারা বলেন, দেশের মোট গ্যাস উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে হবিগঞ্জ অঞ্চল থেকে। এই গ্যাস শিল্পকারখানায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও একই সঙ্গে পরিবেশের ওপর ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
নদী, খাল, জলাশয় ও কৃষিজমিতে শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নিক্ষেপের ফলে মাধবপুর, শায়েস্তাগঞ্জ ও হবিগঞ্জ সদরে মারাত্মক শিল্পদূষণ সৃষ্টি হয়েছে।
ফলে জনস্বাস্থ্য আজ গুরুতর হুমকির মুখে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা।
রোদ্দুর রিফাত
মন্তব্য করুন: