ভবনের রেলিং ধসে
ভূমিকম্পে ঢাকাসহ তিন জেলায় ৪ জনের মৃত্যু, আহত দুই শতাধিক
শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুভূত শক্তিশালী ভূমিকম্পে রেলিং ধসে পড়ে ঢাকা, নরসিংদী ও গাজীপুরে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে দুই শতাধিক মানুষ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর টেলিফোনে এসব হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ঢাকার পুরান ঢাকার কসাইটুলি এলাকায় একটি পাঁচতলা ভবনের রেলিং ধসে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনজন। তারা হলেন—রাফিউল ইসলাম (২০), আবদুর রহিম (৪৮) ও তাঁর ছেলে মেহরাব হোসেন (১২)। নিহত রাফিউল স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের শিক্ষার্থী। আবদুর রহিম লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রকোনা গ্রামের বাসিন্দা; পরিবারসহ সুরিটোলা স্কুলের পেছনে ভাড়া থাকতেন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে রেলিং ধসে মারা গেছে ফাতেমা নামে ১০ মাস বয়সী এক শিশু।
ভূমিকম্পের পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা। লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন জানান, ভূমিকম্পে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ ভবন থেকে দ্রুত বের হতে গিয়ে রেলিং ভেঙে পড়ার ঘটনায় তিনজন নিহত হন। ফায়ার সার্ভিস ভবনের ভেতরে কেউ আটকা আছে কি না তা খুঁজে দেখছে।
ভূমিকম্পে আহতদের মধ্যে শুধু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন। গাজীপুরের তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। নরসিংদীতে আহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জেলা হাসপাতালের তথ্যমতে, অন্তত ৪৫ জন চিকিৎসা নিতে আসেন। গুরুতর আহত তিনজনকে ঢামেকে স্থানান্তর করা হয়। নরসিংদী ১০০ শয্যা হাসপাতালে আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভূমিকম্পের সময় কসাইটুলিতে সবাই দৌড়ে নিচে নামতে থাকেন। স্থানীয় সজিব নামের এক যুবক বলেন, “হঠাৎ ভয়ংকর শব্দে রেলিং ধসে পড়ে। একজন শিশুসহ তিনজনকে আমরা গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠাই।”
ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা সদর জোন–১ এর জোন কমান্ডার এনামুল হক বলেন, “ভবনের ভেতরে কেউ আটকা আছে কি না আমরা চূড়ান্তভাবে যাচাই করছি।”
ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৭, কেন্দ্রস্থল নরসিংদীর ঘোড়াশাল এলাকার কাছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: