কমলগঞ্জে নাচ–গান আর রঙিন আনন্দে খাসিয়াদের বর্ষবিদায়
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে শনিবার ভোর থেকেই যেন অন্য রকম এক সুর বইতে শুরু করে। পাহাড়ি বাতাসে ভেসে আসে ঢোলের শব্দ, রঙিন পোশাকের ঝিলিক, আর মানুষের মুখে উচ্ছ্বাসভরা হাসি। কারণ, আজ খাসিয়া সম্প্রদায়ের প্রিয় দিন—তাদের শতবর্ষী ঐতিহ্যের বর্ষবিদায় উৎসব ‘খাসি সেং কুটস্নেম’। এবার তারা বিদায় জানাল ১২৫ তম বছরকে, বরণ করল ১২৬ তম নতুন বছরকে—আনন্দ আর কৃতজ্ঞতার মিষ্টি মিশেলে।
বিভিন্ন পুঞ্জি থেকে খাসিয়ারা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে ভিড় জমান পুঞ্জির চত্বরে। কেউ গায়ে জড়িয়ে নেন বর্ণিল কাপড়, কেউ মাথায় বাঁধেন রূপালি অলংকার। তাদের নাচ–গান যেন একেকটি গল্প—জুমচাষের পরিশ্রম, পাহাড়ি জীবনের লড়াই, আবার প্রকৃতিকে ঘিরে অগাধ প্রেমও ফুটে ওঠে সেই নৃত্যে।
উৎসবের মাঠে বসে রঙিন মেলা। স্টলজুড়ে খাসিয়াদের হাতে তৈরি বাঁশ–বেতের জিনিস, তীর–ধনুক, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, পাহাড়ি পান—সব মিলিয়ে যেন পাহাড়েরই এক টুকরো সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। সুগন্ধে ভেসে আসে তাদের নিজস্ব খাবারের স্বাদও।
খাসিয়া সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি ও মাগুরছড়া পুঞ্জির মান্ত্রী জিডিশন প্রধান সুছিয়াং আবেগ নিয়ে বলেন, ‘আমাদের সবার জন্যই এটা শুধু উৎসব নয়—এটা আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের শিকড়। খাসিয়া, বাঙালি, পর্যটক—সবাই একসঙ্গে মিশে যাওয়ায় উৎসবটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।’
দিনভর নাচ–গান, হাসি–আনন্দে পুঞ্জিটি পরিণত হয় এক বিশাল মিলনমেলায়। খাসিয়াদের জন্য এ শুধু বর্ষবিদায় নয়, বরং নতুন আশার আলোয় নতুন বছরের পথচলা।
রোদ্দুর রিফাত
মন্তব্য করুন: