রাজনৈতিক প্রভাবে ডুবতে বসেছে ধর্মপাশার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়
Led Bottom Ad

রাজনৈতিক প্রভাবে ডুবতে বসেছে ধর্মপাশার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

২৮/১১/২০২৫ ১৮:০৩:২৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়—২১ জন শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়টি এখন ব্যাপক অনিয়ম, শিক্ষক অনুপস্থিতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। স্কুল খোলা—নির্ভর করে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত স্কুল খোলা রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে বিদ্যালয়টি খুলছে দেরিতে, বন্ধ হচ্ছে আগেভাগে। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে এলেও রোল কল হয় না, শিক্ষকরা আসেন-যান নিজেদের সুবিধামতো—এমন অভিযোগ অভিভাবকদের।


একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“সন্তানকে স্কুলে পাঠাই, কিন্তু গিয়ে দেখি স্কুল বন্ধ। দু’তিনজন শিশু ক্লাসে থাকলেও পড়ানো হয় না।”


স্কুলের সহকারী শিক্ষক মেহেদী হাসান ডালির বিরুদ্ধে আগাম হাজিরার অভিযোগ বহুদিনের। স্থানীয়দের দাবি—তিনি রাজনৈতিক পরিচিতির প্রভাব ব্যবহার করে আগাম সাত দিনের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। ১২ নভেম্বর তিনি একটি রাজনৈতিক পথসভায় অংশ নিলেও সেদিনের হাজিরা খাতায় তাকে ‘উপস্থিত’ দেখানো হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—“স্কুলে না থেকেও হাজিরা দেখানো হয় কীভাবে?” অভিযোগ অস্বীকার করে ডালি বলেন—এসব “সাজানো অভিযোগ”।


২০ নভেম্বর প্রধান শিক্ষিকা শেলী বিদ্যালয়ে ছিলেন না। তবে হাজিরা খাতায় আগের দিন তার উপস্থিতি দেখা যায়। পরে উপজেলা প্রশাসন জানায়—তিনি নাকি “দুই দিন ছুটিতে” ছিলেন। কিন্তু কোনো আনুষ্ঠানিক ছুটির কাগজ পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ—সাংবাদিকেরা উপস্থিত হওয়ায় তড়িঘড়ি করে এই ব্যাখ্যা তৈরি করা হয়।


বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক থাকলেও পাঠদানের মান ভয়াবহভাবে নেমে গেছে। ক্লাসে দুই-তিনজন শিক্ষার্থী থাকলেও রোল কল নেওয়া হয় না। শিক্ষকেরা নিজেরাই হাজিরা খাতা পূরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে অভিভাবকদের।


একজন ক্ষোভভাজন অভিভাবক বলেন,“শিক্ষকের সংখ্যা শিক্ষার্থীর চেয়েও বেশি, তারপরও ক্লাস হয় না—এটা কেমন শিক্ষা?”


উপজেলা শিক্ষা অফিসার মানবেন্দ্র দাস জানিয়েছেন, “অভিযোগের তদন্ত করা হবে।” তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা—এ তদন্তও আগের মতো কাগজেই থেমে যাবে।


শিক্ষক অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল প্রশাসনিক তদারকির কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে প্রতিদিনই। শিশুদের মৌলিক শিক্ষার ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ছে। অনেক অভিভাবক ইতোমধ্যে সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে পাঠাতে শুরু করেছেন।


এক অভিভাবকের অসহায় মন্তব্য—“এই স্কুলে পড়লে বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তাই আমরা তাদের অন্যত্র ভর্তি করছি।”

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad