সুনামগঞ্জে হাওর ফসল রক্ষা বাঁধে কোটি টাকার লুটপাট
Led Bottom Ad

হতভম্ব সুনামগঞ্জবাসী

সুনামগঞ্জে হাওর ফসল রক্ষা বাঁধে কোটি টাকার লুটপাট

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

০৩/১২/২০২৫ ১৮:০৭:৫৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

বাঁধ রক্ষার নামে লুটপাট ঘটনা নতুন নয়। বিষয়টি নিয়ে বারবার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু বন্ধ হয় নি অপকর্ম কিংবা অনিয়ম। সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের গত সাত বছরের কর্মকাণ্ড ঘেঁটে যে চিত্র সামনে এসেছে, তা স্থানীয় মানুষের মধ্যে গভীর হতাশা আর ক্ষোভ তৈরি করেছে। ফসল রক্ষা বাঁধ—যে বাঁধ ভরসা দিয়ে কৃষকরা বছরের পর বছর বোরো চাষ করেন—সেই বাঁধেই কাগজে-কলমে ‘মেরামত’ দেখিয়ে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৫৩ লাখ টাকার বেশি লুটপাট হয়েছে বলে পরিষদের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় উঠে এসেছে।


অভিযোগ আছে, এসব অনিয়মের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল হুদা মুকুট। সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে আছেন—এ তথ্যও স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক সম্প্রতি এসব অনিয়মের বিস্তারিত দুদকে পাঠিয়েছেন।


নথি ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৬-১৭ সালে বাগান সংস্কারের নামে ২০ লাখ টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়। পরের বছরও একই বাগানের নামে আরও তিন প্রকল্পে ব্যয় দেখানো হয় ১৭ লাখ টাকা। তদন্তে পরিষ্কার বলা হয়েছে—এসব প্রকল্প ভুয়া।


২০১৯-২০ সালে ‘নান্দনিক বাগান’ তৈরির নামে আরও ১০ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে কেনা হয়েছে সামান্য কিছু চারা আর সার। স্থানীয়দের ভাষায়—“বাগান কোথায়? শুধু বিলই আছে।”


এদিকে রেস্টহাউস সংস্কারেও পাওয়া গেছে একই চিত্র। সাত বছরে ৪১টি প্রকল্পে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার বেশি। শহরের রেস্টহাউসে একা ১৪টি প্রকল্প—ব্যয় ৮৭ লাখ টাকা।


আইন অনুযায়ী জেলা পরিষদ হাওর রক্ষা বাঁধে কাজ করতে পারে না। সেটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব। তবুও পাহাড়ি ঢল ঠেকানো ও নদীর পানি বৃদ্ধির অজুহাতে এক বছরে হাওরের আটটি স্থানে বস্তা-বাঁশ-মাটি সরবরাহ দেখিয়ে ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা তুলেছে পরিষদ। স্থানীয়দের ভাষায়—“বাঁধ তো ঠিকই ছিল, টাকা গেল কোথায়?”


তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওয়াহাব রাশেদ বলেন,“সাবেক চেয়ারম্যান শক্তিশালী রাজনীতিক ছিলেন। অনেক ভুয়া প্রকল্পের প্রতিবাদ করায় আমাকে বদলি করা হয়।”


তবে দেশের বাহিরে অবস্থান করায় অভিযোগের বিষয়ে নূরুল হুদা মুকুটের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 


পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, হাওরের বাঁধে জেলা পরিষদের কোনো প্রকল্প হওয়ার সুযোগ নেই।


জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন,“অনেক প্রকল্পের সঠিক তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে না। যাদের নামে প্রকল্প দেখানো হয়েছে, তারা হয়তো জানেনই না। যেগুলোর নির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে, দুদকে পাঠানো হয়েছে।”

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad