পাত্তা পেল না ‘লোকাল’ ইস্যু: সিলেট-৪ আসনে ধানের শীষ পেলেন আরিফ
সিলেট-৪ আসনের রাজনীতিতে টানাপড়েন, প্রত্যাশা আর দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অভিযোগ—সবকিছুর অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সাবেক সিটি মেয়র ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরীকে। বৃহস্পতিবার দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন দ্বিতীয় ধাপে দেশব্যাপী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করছিলেন, সেই তালিকার সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল সিলেট-৪ আসন। কারণ এই একটি আসনকে ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ধোঁয়াশা, ক্ষোভ, শোডাউন আর ‘লোকাল নাকি অনলোকাল’ বিতর্কে উত্তাল ছিল গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জের রাজনৈতিক মাঠ।
প্রথম দফার ঘোষণায় যখন এই আসনে আরিফুলের নাম ছিল না, তখন দলের ভেতরে–বাইরে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন—সম্ভবত স্থানীয় কাউকে দেওয়া হবে বিএনপির টিকিট। সেই সময় মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের পৃথক পৃথক শোডাউনে তিন উপজেলা ভরে গিয়েছিল ব্যানার, ফেস্টুন আর মিছিলের ঢেউয়ে। স্লোগান ছিল একটাই—“সিলেট-৪ এ লোকাল চাই, অনলোকাল নয়!”
এই দাবির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও গোয়াইনঘাটের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম চৌধুরী। এলাকার রাস্তাঘাট, নদীভাঙন, সীমান্তবর্তী গ্রামের উন্নয়নবঞ্চনার কথা তুলে ধরে তিনি বলছিলেন-এই আসনের মানুষের দুঃখ-কষ্ট জানে একজন লোকাল নেতা ছাড়া আর কেউ না।
তার সঙ্গে মনোনয়ন প্রত্যাশার তালিকায় যুক্ত হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সাবেক মহানগর সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক নেতা অ্যাড. সামসুজ্জামান জামান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী হেলাল উদ্দিন, এবং সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিমের স্ত্রী অ্যাড. জেবুন্নাহার সেলিম। সবার চোখে ছিল একটাই লক্ষ্য—দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা সীমান্তঘেঁষা এই জনপদের জন্য ‘নিজেদের’ কাউকে মনোনয়ন পাওয়া।
কিন্তু ৪ নভেম্বর ঢাকায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক থেকে ফেরার পর আরিফুলের এক কথায় পাল্টে যায় সবকিছু। তিনি জানান—“চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশেই সিলেট-৪ এ মাঠে নামছি। অবহেলিত এই এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসা।”
এই ঘোষণার পরই মনোনয়ন প্রশ্নে আবার ছড়ায় গুঞ্জন—দল কি ‘লোকাল’ ইস্যুকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে? অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে যখন চূড়ান্ত তালিকায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা এলো, তখন নিশ্চিত হলো—সব বিতর্ককে পেছনে ফেলেই ধানের শীষের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী।
এলাকার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এখন মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ দেখছেন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতার হাতে নতুন আশার সম্ভাবনা, আবার অনেকের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে—এই আসনের জল, মানুষ আর সমস্যা সত্যিই কি একজন ‘লোকাল’ ছাড়া বোঝা সম্ভব?
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—বহুদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জটিলতার পর অবশেষে সিলেট-৪ এর ধাঁধার সমাধান হয়েছে। এখন চোখ নির্বাচনের মাঠে—যেখানে ‘লোকাল’ বিতর্ক ছাড়িয়ে সামনে আসবে উন্নয়ন, বঞ্চনা, সীমান্তের মানুষের জীবনযুদ্ধ আর ভবিষ্যতের নতুন স্বপ্ন।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: