বিএনপিতে ঐক্যের বার্তা : সুনামগঞ্জ-২ আসনে কর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সুর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। মাঠে-মহলে দিরাই–শাল্লা এখন সরগরম। এরই মাঝে সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টায় এক গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ নিলেন দলের মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা নাছির উদ্দীন চৌধুরী।
সোমবার বিকেলে তিনি স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশী অ্যাডভোকেট তাহির রহমান চৌধুরী পাবেলের দিরাই পৌরসভাস্থ বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাতে যান। দুই নেতার এই উপস্থিতি যেন দলীয় বিভেদের ওপর একটি নরম আলো ফেলল—স্থানীয় নেতাকর্মীদের কথায়, “এ সাক্ষাৎ শুধু শুভেচ্ছা বিনিময় নয়, এটি এক ধরনের আশা।”
ঘরের ভেতর ছিল শান্ত পরিবেশ। দুই নেতা কুশল বিনিময়ের পর নির্বাচনের প্রস্তুতি, তৃণমূলে বিভেদ নিরসন এবং দলকে শক্তিশালী করার বিষয়ে কথা বলেন। মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকে যে চাপ, যে দূরত্ব—সেদিনের বৈঠকে তার অনেকটাই লাঘব হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অ্যাডভোকেট তাহির রহমান চৌধুরী পাবেলকে এই অঞ্চলের ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের একজন হিসেবে দেখা হয়। মনোনীত প্রার্থীর নিজ উদ্যোগে তাঁর বাসায় গিয়ে দেখা করাকে নেতাকর্মীরা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে দেখছেন। একজন প্রবীণ কর্মীর ভাষায়, “দল যখন ভাঙনের মুখে থাকে, তখন বড় নেতাদের এমন পদক্ষেপই কর্মীদের মন জোগায়।”
বীর মুক্তিযোদ্ধা নাছির উদ্দীন চৌধুরী সাক্ষাত শেষে বলেন,“এই আসন পুনরুদ্ধার করা শুধু রাজনীতি নয়, এক ধরনের দায়িত্ব। পাবেল চৌধুরী দীর্ঘদিনের নিবেদিতপ্রাণ নেতা। তাঁকে সঙ্গে পাওয়া আমাদের শক্তিকে আরও বাড়াবে।”
অন্যদিকে অ্যাডভোকেট পাবেল নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন,“মনোনয়ন পাওয়া না–পাওয়া দলের প্রক্রিয়া। দল যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, সেটাই আমার জন্য চূড়ান্ত। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে আমরা সবাই একই পরিবারের মানুষ।”
বৈঠকে দিরাই ও শাল্লার বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বলেন, দুই নেতার এই উদ্যোগ তৃণমূলে নতুন উদ্দীপনা ছড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকের ভাষায়, “এই সাক্ষাৎ শুধু সৌজন্য বোধের প্রকাশ নয়—এটি একটি বার্তা, যা দিরাই–শাল্লায় বিএনপির নির্বাচনী মাঠকে আরও গতিশীল করবে।”
প্রীতম দাস
মন্তব্য করুন: