বিয়ানীবাজারে ইমন হত্যা: প্রধান আসামি আশরাফুল গ্রেপ্তার
Led Bottom Ad

বিয়ানীবাজারে ইমন হত্যা: প্রধান আসামি আশরাফুল গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিয়ানীবাজার

১১/১২/২০২৫ ১৯:২৫:০৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের বিয়ানীবাজারে ইমন আহমদ (২০) হত্যাকাণ্ডের এজাহারনামীয় প্রধান আসামি আশরাফুল করিম (২৫)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি হত্যার পর থেকে গা–ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।


পুলিশ ও এলাকাবাসী বলছেন, আশরাফুল কিছুদিন আগে পরিবারের অমতে অন্য জেলার এক নারীকে বিয়ে করেন এবং আলাদা বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকেই তিনি নানা ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন। একসময় গাড়ি চালালেও পরে স্থানীয়ভাবে টমটম চালাতে দেখা যায় তাঁকে।


স্থানীয় সূত্র জানায়, আশরাফুলের সম্বন্ধী সাজেদুল ইসলাম মুন্না বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ জন্য টাকা জোগাড় করতে না পেরে ইমনের ব্যবহার করা একটি স্মার্টফোন নিয়ে দুজনের মধ্যে পরিকল্পনা চলতে থাকে। রোববার সন্ধ্যায় আশরাফুল ইমনকে নিয়ে আটগঞ্জ বাজার এলাকায় যান। পরে একটি নির্জন স্থানে তাঁরা ইমনের ওপর হামলা করেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।


বুধবার সকালে আশরাফুলের দেখানো একটি স্থান থেকে ইমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় কিছু দাগ দেখা যায় বলে জানা গেছে।


স্থানীয় যুবক নুরুল আমীন বলেন, ঘটনার পর আশরাফুল নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমনের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য শেয়ার করেন এবং খোঁজাখুঁজিতেও অংশ নেন। এতে অনেকে বিভ্রান্ত হয়। পরে পুলিশ ফোনকলের তথ্য বিশ্লেষণ করে তাঁকে শনাক্ত করে।


বিয়ানীবাজার থানার উপপরিদর্শক (তদন্ত) ছবেদ আলী বলেন, ইমনের হারানো ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। সাজেদুল ইসলাম মুন্নাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নিহতের ভাই জাবেদ আহমদ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন বলে জানান তিনি।


থানা–পুলিশের ওসি মো. ওমর ফারুক বলেন, গ্রেপ্তার আশরাফুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁর জবানবন্দি হত্যাকাণ্ডের পটভূমি আরও স্পষ্ট করবে।


ইমন আহমদ কুড়ারবাজার ইউনিয়নের খশির নামনগর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা মুতলিব মিয়াও অতীতে দুষ্কৃতিকারীদের হামলায় নিহত হয়েছিলেন বলে পরিবারের সূত্রে জানা গেছে। প্রধান আসামি আশরাফুল একই গ্রামের বাসিন্দা। আর সাজেদুল ইসলাম মুন্নার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়।


বৃহস্পতিবার বিকেলে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে ইমনকে দাফন করা হয়। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও প্রধান আসামি গ্রেপ্তারের পর স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁরা অপর আসামিকেও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad