বিজয় দিবসে রাজনগর প্রেসক্লাবে চোখের জলে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি রোমন্থন
Led Bottom Ad

বিজয় দিবসে রাজনগর প্রেসক্লাবে চোখের জলে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি রোমন্থন

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাজনগর

১৬/১২/২০২৫ ১৮:৪৪:৫০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

একাত্তরের সেই উত্তাল দিনগুলো যখন জীবন বাজি রেখে অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এ দেশের দামাল ছেলেরা। সেই স্মৃতি মনে করতেই কেঁপে উঠছিল কণ্ঠ, ঝরছিল অশ্রু। স্মৃতির পাতায় ফিরে গিয়ে কেউ থামাতে পারেননি আবেগ। রণাঙ্গনের সেই দুঃসহ অথচ গৌরবময় গল্পে নিঃশব্দে ভিজে উঠেছিল রাজনগর।


মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজনগর প্রেসক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিতে ’৭১’। মঙ্গলবার বিকেলে রাজনগর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন উপজেলার ৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদের মুখে শোনা যায় স্বাধীনতা যুদ্ধের না বলা বহু গল্প যা ইতিহাসের পাতায় নয়, হৃদয়ের গভীরে লেখা।


রাজনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি আউয়াল কালাম বেগ-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান সোহেল-এর সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সজল চক্রবর্তী, প্রখর কান্তি চক্রবর্তী, একেএম মুস্তাফিজুর রহমান, অজয় কুমার দাস, সরদিন্দু কুমার দে ও মো. ইন্তাজ আলী।


মুক্তিযোদ্ধারা তাঁদের বক্তব্যে তুলে ধরেন ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের অভিজ্ঞতা, সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ফিরে আসার রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত এবং পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেওয়ার লোমহর্ষক স্মৃতি। খাদ্য ও অস্ত্রের অভাব, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ সবকিছুকে তুচ্ছ করে কেবল স্বাধীনতার স্বপ্ন বুকে ধারণ করেই তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন যুদ্ধে।


অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক মানবজমিন এর বিশেষ প্রতিনিধি ও কূটনৈতিক প্রতিবেদক মিজানুর রহমান এবং রাজনগর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা আব্দুল আজিজ। তাঁরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কেবল পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এমন আয়োজনের মধ্য দিয়েই নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনার সঙ্গে যুক্ত হবে।


বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে রাজনগরে এই ধরনের গভীরতা ও সম্মানপূর্ণ স্মৃতিচারণমূলক আয়োজন আগে হয়নি। তাঁদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় দেশের জন্য উৎসর্গ করা মানুষদের সম্মান জানানোর এই উদ্যোগের জন্য তাঁরা রাজনগর প্রেসক্লাবের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


অনুষ্ঠানের শেষপর্বে রাজনগর প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অতিথিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ জানান, ভবিষ্যতে উপজেলার সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অন্তর্ভুক্ত করে ধারাবাহিকভাবে এমন স্মৃতিচারণমূলক আয়োজন চালু রাখা হবে যাতে ইতিহাস বাঁচে, চেতনা জাগে।




জুয়েল আহমদ,

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad