তাহিরপুরে দলইগাঁও বনবিট অফিসে ঝুলছে তালা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের দলইগাঁও বনবিট অফিস দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। কর্মীহীন এই অফিসে নেই কোনো কর্মকর্তা কিংবা গার্ড। স্থানীয়রা বলছেন, এটি যেন এক পরিত্যক্ত সরকারি স্থাপনায় পরিণত হয়েছে।
মাটিয়ান হাওরের তীরে অবস্থিত দলইগাঁও অফিসটি চারদিকে পানি বেষ্টিত এলাকায়। আশপাশে দৃশ্যমান কোনো বনাঞ্চল না থাকলেও অফিস থেকে প্রায় ৬-৭ কিলোমিটার পূর্ব দিকে মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা বারেকটিলা এলাকায় ফরেস্ট বিভাগের গাছের বাগান রয়েছে। সেখান থেকে মাঝেমধ্যে পাহাড়ি ঢলে ভেসে আসে গাছপালা ও কাঠ, তবে সেগুলোর তদারকি বা সংরক্ষণের কোনো কার্যক্রম এই অফিস থেকে চালানো হয় না।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "অযথাই সরকারের টাকা ব্যয় হচ্ছে। অফিসে কেউ নেই, কোনো কার্যক্রম নেই। তাহলে এটার দরকার কী?
সরেজমিনে দেখা গেছে, অফিস ঘরে তালা ঝুলছে। ভেতরে রাখা সরকারি আসবাবপত্র এলোমেলো, অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে।
তাহিরপুর উপজেলা উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হায়দার বলেন, দলইগাও বনবিট অফিস সবসময় বন্ধ থাকে। বছর এককবার একেক জন হাজির হউন,, হঠাৎ এসে আমার সাথেও দেখা করে একেক জন।এর পর আর দেখা যায় না। এরপর আবার বন্ধ অফিস । আমি উর্ধতন কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। যাতে করে সরকারি দপ্তরের অফিস গুলোর কার্যক্রম সচল হয়। সেই দিকে দৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানাছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বনবিভাগের জেলা কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন বলেন, দলইগাও বনবিট অফিসে বিট অফিসার নেই, শক্তিয়ারখলার বিট অফিসার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সেখানে তাকেন না, মাঝে মধ্যে আসেন। তবে একজন গার্ড আছে তিনি তাহিরপুর থেকে টাংগুয়ার হাওরের বাগানটি দেখা শুনা করেন। এই বিট অফিসের অধীনস্হ কয়টি বাগান আছে, অফিসের কার্যক্রম কি? কখনো স্থায়ী ভাবে চলবে-এ প্রশ্ন করার সঙ্গে সঙ্গে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায়, উনার মন্তব্য জানা যায়নি।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: