তাহিরপুরে জামায়াতের জনসভায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
Led Bottom Ad

মাদরাসার অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত রেখে

তাহিরপুরে জামায়াতের জনসভায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, তাহিরপুর

০৫/০৭/২০২৫ ১৬:৪৭:১৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মাদরাসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যোগ দিলেন জামায়াত নেতার রাজনৈতিক জনসভায়। ঘটনাটি ঘটে গেল বৃগস্পতিবার (৩ জুলাই) তাহিরপুরে। এ ঘটনার সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। শুরু হয় তোলপাড়। উত্তেজনা দেখা দেয় অভিভাবক মহলেও। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত শিক্ষকদের দায়িত্ব নিয়ে। মাদরাসার এক শিক্ষার্থী জানায়, বৃহস্পতিবার মাদরাসায় অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। তবে জামায়াত নেতার অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য মাদরাসার সুপার আব্দুল মান্নানের নির্দেশে পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়। নির্দেশ অনুযায়ী সকল শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরা ইঞ্জিন চালিত নৌকা করে অনুষ্ঠানস্থলে যোগ দেন। অভিযুক্ত মারাসার নাম তাহিরপুর কলাগাঁও জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা। 


জানা যায়, ৩ জুলাই তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট বাজারে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী পথসভা ও গণসংযোগ ছিল। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের জামায়াতে ইসলামির মনোনীত প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ মাওলানা তোফায়েল আহমদ খান। ওই সভায় যোগ দিতে উপজেলার কলাগাঁও জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে সুপার আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বেও কর্মী সমর্থকরা সমাবেশস্থলে আসেন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের কেউ কেউ মাদ্রাসা তালাবদ্ধের ছবি ও চলমান পরীক্ষার রুটিন আপলোড করে প্রতিবাদ জানান। ওইদিন সপ্তম শ্রেণির বাংলা, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান এবং দশম শ্রেণির আরবি পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল বলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেন প্রতিবাদকারীরা।


এ বিষয়ে মাদরাসার সুপার আবদুল মান্নান ‘প্রথম সিলেট’ কে বলেন, ‘আমি এখন একটি মিটিংয়ে আছি। ১ ঘন্টা পরে আপনার সাথে কথা বলি। তবে ১ ঘন্টা পরে কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।  


এ বাপারে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বললেন, মাদ্রাসা বোর্ড আলাদা, বিষয়টি দেখভাল করে ম্যানেজিং কমিটি, এখানে আমাদের কিছুই বলার থাকে না।


তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল হাসেম বলেন, বিষয়টি আমিও শোনেছি। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


মাদরাসার শিক্ষার্থী যোগ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন জেলা জামায়েতের আমির তোফায়ের আহমদ খান। তিনি বলেন, বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা থেকে শুভাকাঙ্খি ও সমর্থকেরা এসেছেন। তবে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে কারা আসলো-সে হিসেব আমার রাখার কথা নয়।  


নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad