হবিগঞ্জে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগী, বোরো চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তা
Led Bottom Ad

তীব্র শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব

হবিগঞ্জে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগী, বোরো চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তা

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

০৬/০১/২০২৬ ১২:৩৪:০৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

তীব্র শৈত্যপ্রবাহে নাকাল হয়ে পড়েছে দেশের প্রায় সব অঞ্চল। এর প্রভাব পড়েছে হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও। গত ২৪ ঘণ্টায় নবীগঞ্জ উপজেলায় তাপমাত্রা হঠাৎ করেই উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে গেছে। কনকনে ঠান্ডা বাতাস, ঘন কুয়াশা আর দিনের বেলায় সূর্যের অনুপস্থিতিতে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও নিম্নআয়ের মানুষ।

শীতের প্রকোপে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। সর্দি, কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানিতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে থেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও আব্দুস সামাদ জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগী আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। হাসপাতালের শয্যা রোগীর তুলনায় অপ্রতুল হয়ে পড়েছে।

নবীগঞ্জ ইউনাইটেড হাসপাতালের পরিচালক মাহবুবুল আলম সুমন বলেন, “আমাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ রোগীই শিশু। এখন পর্যন্ত ঠান্ডাজনিত রোগে ৫০ জনের বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে।”

শুধু রোগভোগ নয়, শীতের তীব্রতায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষও। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে গ্রাম ও হাওরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক ও পথশিশুদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

এদিকে মাধবপুর উপজেলায় শৈত্যপ্রবাহে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বোরো ধানের আবাদ। বুল্লা, ছাতিয়াইন, নোয়াপাড়া ও শাহজাহানপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় বোরো ধানের বীজতলায় চারাগাছ হলদে হয়ে যাচ্ছে, কোথাও কোথাও পচেও নষ্ট হচ্ছে।

বুল্লা ইউনিয়নের কৃষক রফিক মিয়া বলেন, “দুই সপ্তাহ আগে বীজতলা দিয়েছিলাম। কিন্তু এত ঠান্ডায় চারা বাড়ছে না। অনেক জায়গায় গাছ পচে যাচ্ছে।”

ছাতিয়াইন ইউনিয়নের কৃষক মোস্তাক আহমদ বলেন, “সময়মতো বোরো রোপণ না করতে পারলে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যাবে। রোদ না উঠলে বীজতলা রক্ষা করা যাবে না।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার জানান, তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণে বোরো ধানের বীজতলায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। কৃষকদের খড় বা পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখা, কুয়াশা কেটে গেলে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, “প্রকৃতি সহায় না হলে এবার ফসল উৎপাদন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।”

শীতের এই ভয়াবহতায় হবিগঞ্জের জনজীবন ও কৃষি—দুটোই এখন উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন পার করছে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad