হবিগঞ্জ–১ আসনে বাড়ছে ভোটের সমীকরণ, চাপে বিএনপির রেজা কিবরিয়া
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ–১ (নবীগঞ্জ–বাহুবল) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শাহজাহান আলী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়াকে ঘিরে বাড়ছে আলোচনা, যার প্রভাব পড়ছে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার ওপর।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত দ্বিতীয় রোডম্যাপ অনুযায়ী মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দ ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
জামায়াত প্রার্থী মো. শাহজাহান আলীর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের খবরে স্থানীয় জামায়াতপন্থী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। গতকাল বিকেলে নবীগঞ্জের আউশকান্দি গোলচত্বরে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ আসনে বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া, ১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মিরপুরী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া। ভোটারদের একটি অংশের ধারণা, আসন্ন নির্বাচন ত্রিমুখী লড়াইয়ে রূপ নিতে পারে।
হবিগঞ্জ–১ আসনে বিএনপির তৃণমূল রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় শেখ সুজাত মিয়া ২০১১ সালের উপনির্বাচনে প্রথমবার জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়ে চমক দেখান তিনি। এবারের নির্বাচনে তাঁর প্রার্থিতা ঘিরে শুরু থেকেই নানা জল্পনা ছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় ভোটের হিসাব আরও জটিল হয়েছে।
এদিকে বিএনপি প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা জোরদার করেছেন। গতকাল সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ উপজেলার গোল্ডেন প্লাজায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়ার সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎও হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে নানা ব্যাখ্যার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত প্রার্থীর সরে দাঁড়ানো, স্বতন্ত্র প্রার্থীর অবস্থান এবং জোট প্রার্থীর উপস্থিতি—সব মিলিয়ে হবিগঞ্জ–১ আসনের নির্বাচন হাড্ডাহাড্ডি ও চমকপ্রদ হতে পারে। শেষ মুহূর্তের কৌশল, ভোটারদের নীরব মনোভাব এবং দলীয় সমীকরণই নির্ধারণ করবে এই আসনের ফলাফল। ফলে নির্বাচন ঘিরে সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও আগ্রহ ও কৌতূহল বাড়ছে।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: