২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা
বিশ্বম্ভরপুরে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে ধীরগতি
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বোরো ফসল রক্ষা বাঁধের কাজে চরম ধীরগতি দেখা দিয়েছে। সরকারি ‘কাবিটা নীতিমালা-২০২৩’ অনুযায়ী আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, নির্ধারিত সময়ের মাত্র ১০ দিন আগে সরেজমিনে দেখা গেছে বিশাল কর্মযজ্ঞ এখনো বাকি। প্রশাসনের কর্মকর্তারা নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকায় তদারকির অভাবে কাজের গতি কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ৯ থেকে ১৩ নম্বর পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ফুলবড়ি ও কাটাখালি গ্রাম সংলগ্ন বাঁধ, হরিমইন্না ও বেকাবাঁধে এখনো মাটির কাজ চলছে। গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজার বা ভাঙন অংশগুলোতে বাঁশের আড় দেওয়া, দুরমুজ করা কিংবা ঘাস লাগানোর মতো ফিনিশিং কাজ এখনো শুরুই হয়নি। স্থানীয় কৃষক তাহির আলী ও সুমন বনিক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যেভাবে কাজ চলছে তাতে চৈত্র মাসের আগে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বৃষ্টির আগে কাজ শেষ না হলে নদীর ঢলে হাওরের ফসল তলিয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হবে। আরেক কৃষক কবির হোসেন বলেন, মাটির কাজ শেষে এখনই ঘাস না লাগালে খরায় ঘাসগুলো মরুভূমিতে পরিণত হবে এবং বাঁধ টেকসই হবে না। ৯ নম্বর পিআইসির সভাপতি রতিন্দ্র বর্মণ কাজের মন্থরগতির কারণ হিসেবে সময়মতো বিল না পাওয়াকে দায়ী করেছেন।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলন এই পরিস্থিতিকে ‘পিআইসি প্রথা’ বিলুপ্ত করে পুনরায় ঠিকাদারি প্রথা ফিরিয়ে আনার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন। তিনি অভিযোগ করেন, পাউবো পরিকল্পিতভাবে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি করছে।
তবে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, জেলায় মোট ৭১০টি পিআইসির মাধ্যমে ৬০১ কিলোমিটার বাঁধের কাজ চলছে, যার সার্বিক অগ্রগতি বর্তমানে ৬৫ শতাংশ এবং ক্লোজারগুলোর অগ্রগতি ৭৩ শতাংশ। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্নের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: