তলদেশে ৫-৬ ফুট পলিথিনের স্তর
সিলেটের প্রাণরেখা সুরমা নদী এখন বর্জ্যের ভাগাড়
সিলেট নগরীর বুক চিরে বয়ে চলা এক সময়ের প্রমত্তা সুরমা নদী এখন কার্যত বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন নগরীর টন টন গৃহস্থালি, ক্লিনিক্যাল ও প্লাস্টিক বর্জ্য নদীতে ফেলায় এটি এখন এক অঘোষিত ডাম্পিং সাইটে রূপ নিয়েছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নগরীর তোপখানাঘাট, কালীঘাট, কাজীরবাজার, শেখঘাট ও কদমতলীসহ অন্তত ৯টি জনগুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ময়লার স্তূপ সরাসরি নদীর তলদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে শেখঘাট ও কদমতলী এলাকায়, যেখানে প্রকাশ্যে ময়লা ফেলা হচ্ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, নদীর তলদেশে ৫ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত পলিথিনের স্তর জমেছে, যা নাব্য হ্রাসের অন্যতম কারণ। শুকনা মৌসুমে নদীটি এতটাই স্থবির যে অনেক স্থানে চর জেগেছে এবং মানুষ হেঁটেই নদী পার হচ্ছে। দূষিত পানির কারণে ছড়িয়ে পড়ছে চর্মরোগ ও পানিবাহিত নানা ব্যাধি, আর ময়লার স্তূপ হয়ে উঠেছে মশার প্রজনন ক্ষেত্র।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর তথ্য অনুযায়ী, সুরমার শুধু সিলেট অংশেই ১৫১ জন অবৈধ দখলদার রয়েছে।
বাপা-এর যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা লাকী নদী বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে খনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, পলিথিন অপসারণ এবং জনসচেতনতাসহ সাতটি পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, সিলেট থেকে প্রতিনিধিত্বকারী দুইজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর বিশেষ নজরদারি ছাড়া সুরমার পুনরুজ্জীবন সম্ভব নয়।
এদিকে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানিয়েছেন, নদী খননের একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
তবে সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মো. একলিম আবেদীন উল্লেখ করেছেন যে, কেবল প্রশাসনিক অভিযান নয় বরং নগরবাসীর সচেতনতা ছাড়া নদী দূষণ রোধ করা অসম্ভব।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: