ছাতকে ভয়াবহ পানিসংকট: ৩ শতাধিক গ্রামে হাহাকার
Led Bottom Ad

দুর্ভোগে লাখো মানুষ

ছাতকে ভয়াবহ পানিসংকট: ৩ শতাধিক গ্রামে হাহাকার

নিজস্ব প্রতিনিধি. ছাতক

২৮/০২/২০২৬ ১৬:১৬:৫০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় দীর্ঘস্থায়ী অনাবৃষ্টি, তীব্র তাপদাহ এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিক নিচে নেমে যাওয়ায় স্মরণকালের ভয়াবহ পানিসংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ৫৩১টি গ্রামের মধ্যে অন্তত তিন শতাধিক গ্রামে এখন পানির জন্য হাহাকার চলছে, যার ফলে প্রায় এক লাখেরও বেশি মানুষ নিরাপদ পানির অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার মোট ১৮ হাজার টিউবওয়েলের মধ্যে প্রায় ১২ হাজার বা ৮০ শতাংশ টিউবওয়েলই বর্তমানে পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। ভাতগাঁও, কালারুকা, জাউয়াবাজার ও চরমহল্লাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ২০০ থেকে ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় সাধারণ নলকূপ থেকে এক ফোঁটা পানিও উঠছে না।

জাউয়াবাজারের মুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা ক্বারী মাওলানা জুনায়েদ আহমদ জানান, আগে ৫০০ ফুটে পানি পাওয়া গেলেও এখন ৭০০ ফুটেও পানির নিশ্চয়তা মিলছে না; ফলে নারী ও শিশুদের মাইলের পর মাইল হেঁটে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অনেকে নিরুপায় হয়ে পুকুরের দূষিত পানি ফুটিয়ে পান করছেন, যার ফলে এলাকায় ডায়রিয়া ও চর্মরোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাওর-বিল ভরাট, প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংস এবং নদীর নাব্য হ্রাসের কারণেই এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে; পাশাপাশি সরকারি গভীর নলকূপ বরাদ্দে অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে।

ছাতক জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইছহাক আলী পানির স্তর নিচে নামার সত্যতা স্বীকার করে জানান, সরকারিভাবে নতুন গভীর নলকূপ স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডিপ্লোমেসি চাকমা জানিয়েছেন, সংকটাপন্ন এলাকাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad