তাহিরপুরে পানির অভাবে ফেটে চৌচির হাওর: বোরো ফলন নিয়ে দিশেহারা কৃষক
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওর, মাটিয়ান, হালী ও গুরমাসহ ছোট-বড় ২৩টি হাওরাঞ্চলে তীব্র অনাবৃষ্টি ও সেচ সংকটে বোরো ধানক্ষেতের মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে; পানির অভাবে রোপণ করা ধানগাছ জীর্ণ হয়ে পড়ায় চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে চরম শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় এবং দুর্গম হাওরাঞ্চলে বিকল্প সেচ ব্যবস্থার কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় রোপণের পর থেকে ধানচারা ঠিকমতো বৃদ্ধি পাচ্ছে না, বরং অনেক স্থানে পানির জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে। শনির হাওর পাড়ের কৃষক আলমগীর কবির জানান, অর্ধেক সময় পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় ধানগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে, যদিও কিছু কিছু আগাম জাতের ধানে ফুল ফুটতে শুরু করেছে যা কৃষকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিড, উফশী ও দেশীয় বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে, কিন্তু প্রাকৃতিক বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল এই জনপদে খরা পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায় জমির উর্বরতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, হাওরাঞ্চলের বিশাল পতিত জমিকে সেচ সুবিধার আওতায় আনা এবং টেকসই সেচ অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে কৃষি অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হতো। উদ্ভূত পরিস্থিতি ও কৃষকদের ভোগান্তি নিয়ে জানতে চাইলে তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, এই খড়ায় ধান ক্ষেতে আঘাত এনেছে ঠিক। এর প্রতিরোধে সেচেই একমাত্র উত্তম পন্থা। কিন্তু হাওর অঞ্চলের জমিতে বিকল্প সেচ ব্যবস্থা নেই।
আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন হাজারো কৃষক, অন্যথায় সোনালি ফসলের পরিবর্তে এবার কেবল হাহাকারই অবশিষ্ট থাকবে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: