সেবা না পেয়ে হাওরবাসীর হাহাকার
চিকিৎসক ও জনবল সংকটে ধুঁকছে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার প্রায় ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা ‘দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’ বর্তমানে চরম জনবল সংকটে ধুঁকছে; ১৬ জন সহকারী সার্জনের একজনও না থাকায় এবং জরুরি বিভাগের সবকটি পদ শূন্য থাকায় হাওরপাড়ের গরিব ও অসহায় মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতাল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এখানে অ্যাসিস্ট্যান্ট সার্জনের ১৬টি পদের সবকটি এবং ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের ৪টি পদই দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য রয়েছে; এমনকি ৭ জন অফিস সহকারীর বিপরীতে একজনও কর্মরত নেই। শুধু চিকিৎসক নয়, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, ওয়ার্ডবয়, নিরাপত্তা প্রহরী ও আয়া সহ অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি থাকায় হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী ভর্তি থাকায় অধিকাংশকেই হাসপাতালের বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। স্থানীয় ভাটি বাংলা সমবায় সমিতির পরিচালক প্রশান্ত সাগর দাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সুন্দর ভবন ও পরিবেশ থাকলেও ডাক্তার ও টেকনিশিয়ানের অভাবে হাওরবাসী সেবা পাচ্ছে না; তাই তাঁরা অবিলম্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. প্রশান্ত তালুকদার জানান, জনবল সংকটের কারণে বাড়তি চাপ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তাঁদের হিমশিম খেতে হচ্ছে এবং অনেক সময় রোগীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শংকর চন্দ্র দাস জানান, দিরাই ছাড়াও পাশের শাল্লা ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার রোগীরা এখানে আসেন, কিন্তু পদগুলো শূন্য থাকায় সদিচ্ছা সত্ত্বেও পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া যাচ্ছে না।
সুনামগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জনবল সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং হাওরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদী।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: