হবিগঞ্জে এনজিওর আড়ালে পর্নোগ্রাফি ও ধর্ষণের সাম্রাজ্য
Led Bottom Ad

বাহুবলে কথিত ‘মানবাধিকার নেতা’ গ্রেপ্তার

হবিগঞ্জে এনজিওর আড়ালে পর্নোগ্রাফি ও ধর্ষণের সাম্রাজ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

০৯/০৩/২০২৬ ২২:৫১:৩৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের বাহুবলে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) পরিচালনার আড়ালে অসহায় নারীদের ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করার এক ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার কর্মীর ছদ্মবেশে দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র পরিচালনা করে আসছিলেন ‘দরিদ্র কল্যাণ সংস্থা’র কর্ণধার নুরুল ইসলাম ওরফে নুরুল হক। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় র‍্যাব-৯-এর শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল চুনারুঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই কুখ্যাত চক্রের মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে।

র‍্যাব জানায়, অসহায় নারীদের জিম্মি করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগে এক ভুক্তভোগী তরুণীর দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত নুরুল হক বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের লাকুড়ীপাড়া গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চুনারুঘাট উপজেলার এক তরুণী বছরখানেক আগে নূরুল হকের সংস্থায় অফিস সহকারী হিসেবে যোগ দেন। যোগদানের পর থেকেই নুরুল হক তাকে কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন। গত ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মহাশয়ের বাজারে সংস্থার কার্যালয়ের ভেতরেই ওই তরুণীকে প্রথমবার ধর্ষণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ধর্ষণের সময় নুরুল হক কৌশলে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে রাখেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টানা পাঁচ মাস তাকে জিম্মি রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ আরও ভয়ংকর। তিনি জানান, নুরুল হক তাকে প্রায়ই চেতননাশক ওষুধ খাইয়ে তার বন্ধু ও প্রবাসীদের হাতে তুলে দিতেন। সম্প্রতি ওই তরুণী চাকরি ছেড়ে দিলে আপত্তিকর ভিডিওগুলো বিদেশে থাকা বন্ধুদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিকার চেয়ে তিনি বাহুবল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, কেবল ওই তরুণীই নন, ওই প্রতিষ্ঠানের আরও একাধিক নারী কর্মী একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। চুনারুঘাট ও বাহুবলের আরও দুই তরুণী একইভাবে ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাশিদা নামে এক শিক্ষার্থীও নুরুল হকের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন।

র‍্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট সাজ্জাদ হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি নুরুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে এনজিওর আড়ালে অসহায় নারীদের ব্ল্যাকমেইল করার কথা স্বীকার করেছে।

বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, মামলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হবে। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad