ভূমধ্যসাগরে অনাহারে-পিপাসায় সুনামগঞ্জের ১০ জনসহ ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু
লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে অন্তত ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি নৌকাডুবি মনে করা হলেও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, নৌকায় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় প্রায় এক সপ্তাহ সাগরে ভাসমান অবস্থায় অনাহার ও তীব্র পানির পিপাসায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোরে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ এক নারী ও এক শিশুসহ ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে, যাদের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি। তবে এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলার অন্তত ১০ জন তরুণের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও গ্রামের নিখোঁজ আমিনুর রহমানের ভাই মিজানুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তাদের নৌকাটি মাঝ সাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ছয় দিন ভাসমান ছিল। অন্য একটি নৌকায় থাকা প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে তিনি জানান, খাবারের অভাব এবং লোনা পানি পান করতে না পারায় অধিকাংশ যাত্রী মারা গেছেন; কেবল যারা সামান্য খাবার সাথে রেখেছিলেন তারাই বেঁচে ফিরতে পেরেছেন। নিহতদের মধ্যে দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের নুরুজ্জামান ময়না (৩৮), সাজিদুর রহমান (৩২), শাহান এহিয়া (২৫) এবং রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান (৪৫) রয়েছেন। এছাড়া দোয়ারাবাজারের ফাহিম আহমেদ মুন্না (২০) এবং জগন্নাথপুর উপজেলার আরও পাঁচজন এই মর্মান্তিক মৃত্যুর তালিকায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে বাংলাদেশি ছাড়াও দক্ষিণ সুদান ও চাদের নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ক্রিটের হেরাক্লিয়ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যমতে, মৃত্যুর পর অনেকের মরদেহ সাগরেই ফেলে দেওয়া হয়েছে, যা নিহতের পরিবারগুলোতে শোকের মাতম আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: