সংঘর্ষে ২০ কৃষক আহত
সুনামগঞ্জে ১৪৪ ধারা অমান্য করে হাওরের বাঁধ কর্তন
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ডাকুয়ার হাওরে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও চলমান বৈঠক তোয়াক্কা না করেই সশস্ত্র অবস্থায় হাওরের রক্ষাবাঁধ কেটে দেওয়ার ঘটনায় চরম উত্তেজনা ও অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকালে বাঁধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জিত কুমারের উপস্থিতিতে যখন মোহনপুর ও নোয়াগাঁও এলাকার প্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি সভা চলছিল, ঠিক তখনই মছব্বির মেম্বারের নেতৃত্বে নোয়াগাঁও, গোরেরগাঁও, কান্দাগাঁও ও উলুতুলু গ্রামের কয়েকশ লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাঁধে চড়াও হয়। বাঁধ কাটতে বাধা দিতে গেলে মোহনপুর গ্রামের সাধারণ কৃষকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায় সশস্ত্র গোষ্ঠীটি, যার ফলে আলী, আফিজ, সুকুর আলী, আজিজুল ও জাহাঙ্গীরসহ অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলাকারীরা জনবল ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক বাঁধটি কেটে দেওয়ায় হাওরের হাজার হাজার একর ফসলি জমি এখন সরাসরি হুমকির মুখে পড়েছে। এই ধৃষ্টতাপূর্ণ ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলাকালীন আইন হাতে তুলে নেওয়া একটি গুরুতর অপরাধ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জিত কুমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যারা বাঁধ কেটেছে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে বাঁধটি কেটে দেওয়ায় ডাকুয়ার হাওর তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে; মোহনপুর গ্রামের ইউপি সদস্য নূরুল আমিন আক্ষেপ করে বলেন, গ্রামের লোকজন নিজেদের ফসল রক্ষা করতে গিয়ে পরিকল্পিত হামলার শিকার হয়েছে এবং এখন তাদের সারা বছরের আহার পানির নিচে যাওয়ার অপেক্ষায়। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নতুন কোনো সহিংসতা রুখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে হাওর অঞ্চলে এ ধরনের সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
প্রীতম দাস
মন্তব্য করুন: