আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে গোলাপগঞ্জে বিএনপি থেকে একাধিক প্রার্থীর গুঞ্জন
দেশজুড়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে জোর প্রস্তুতি ও কৌশল নির্ধারণ। তৃণমূল পর্যায়ের এই নির্বাচনগুলোতে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণ এবং অভ্যন্তরীণ ঐক্যই হয়ে উঠছে বিজয়-পরাজয়ের অন্যতম প্রধান নির্ধারক।
এই প্রেক্ষাপটে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে বিশেষ আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, বড় দলগুলোর মধ্যে বিশেষ করে বিএনপি যদি প্রার্থী নির্ধারণে কৌশলগত ভুল করে এবং একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন, তাহলে চেয়ারম্যান পদ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দলটির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী ইতোমধ্যে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে দলীয়ভাবে একজন প্রার্থী চূড়ান্ত করা গেলে জয়লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একাধিক প্রার্থী বা বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলে ভোট বিভক্ত হয়ে যায়, যার সরাসরি সুবিধা পেতে পারে প্রতিপক্ষ দল। গোলাপগঞ্জের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে জামায়াত এই পরিস্থিতিতে শক্ত অবস্থানে চলে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা সামনে আনা হচ্ছে। ওই নির্বাচনে বিএনপির তিনজন প্রার্থী—নছিরুল হক শাহিন, জিলাল উদ্দিন এবং অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী—প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের সম্মিলিত প্রাপ্ত ভোট ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। বিপরীতে জামায়াতের প্রার্থী প্রায় ২৪ হাজার ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির প্রার্থীদের মোট ভোট জামায়াত প্রার্থীর চেয়ে প্রায় ১১ হাজার বেশি হলেও প্রার্থী বিভক্তির কারণে বিজয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার পাশাপাশি দলীয় ঐক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে যদি বিএনপি গোলাপগঞ্জে একক প্রার্থী নির্ধারণ করতে পারে, তাহলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা জোরালো হবে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: