সংবাদ সম্মেলনে এসএমপি কমিশনার
‘লন্ডনের চেয়েও নিরাপদ শহর সিলেট’
সিলেটকে দেশের সবচেয়ে নিরাপদ শহর হিসেবে দাবি করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও নিরাপত্তা সূচকে সিলেট এখন লন্ডনের চেয়েও ভালো অবস্থানে রয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই চাঞ্চল্যকর ও ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরেন।
আন্তর্জাতিক ক্রাউড সোর্স অনলাইন ডাটাবেজ ‘NUMBEO.com’-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে তিনি জানান, বাংলাদেশের আটটি মহানগরের মধ্যে সিলেটের ক্রাইম ইনডেক্স (অপরাধ সূচক) সবচেয়ে কম, যা মাত্র ৩২.৭০।
আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শহরের অপরাধ সূচক ৪০-এর নিচে থাকলে তাকে অত্যন্ত নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং বাংলাদেশের অন্য কোনো মহানগরের এই সূচক ৪০-এর নিচে নেই। অন্যদিকে, সেইফটি ইনডেক্স বা নিরাপত্তা সূচকে সিলেট ৬৭.২০ স্কোর নিয়ে দেশের শীর্ষে অবস্থান করছে, যেখানে নিকটতম শহর রংপুরের স্কোর ৫৪.৪১।
পুলিশ কমিশনার বলেন, সাত মাস আগে আমি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি তখন এই সূচক ছিল ৫২, যা এখন ৬৭-তে পৌঁছেছে। এই অভাবনীয় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সিলেটের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্বের অনেক নামী শহরের চেয়েও ভালো, এমনকি লন্ডনের নিরাপত্তা সূচকও এখন সিলেটের চেয়ে নিচে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু ছিনতাইয়ের খবরের তীব্র সমালোচনা করেন এবং জানান যে, তালতলা ও তেমুখির মতো আলোচিত ঘটনাগুলো মূলত ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে হওয়া মারামারি ছিল, যা যাচাই না করেই ‘ছিনতাই’ হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। এতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং পুলিশের মনোবল ভেঙে যায়। তবে অপরাধ দমনে পুলিশ হাত গুটিয়ে বসে নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ২৬৩ জন চিহ্নিত ছিনতাইকারীর একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিশেষায়িত টিমের মাধ্যমে আগামী দুই মাসের মধ্যে বাকিদেরও আইনের আওতায় এনে সিলেটের অপরাধ প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য মাত্রায় নামিয়ে আনার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। পর্যটন নগরী সিলেটের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং পর্যটকদের উৎসাহিত করতে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ ও পজিটিভ সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এসএমপি কমিশনার। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সূচক ধরে রাখতে নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: