সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যা চেষ্টা মামলা
আদালতে আরিফুল, বাবর ও জি কে গৌছ নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেন
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় গ্রেনেড হামলা ও হত্যা চেষ্টা মামলায় সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন সাবেক সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং সাবেক মেয়র ও বর্তমান সংসদীয় হুইপ জি কে গৌছ।
সোমবার দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারের আদালতে ৩৪২ ধারায় আসামি পরীক্ষা চলাকালে তারা এই জবানবন্দি প্রদান করেন। এসময় আসামিরা এই মামলাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক হিসেবে আখ্যায়িত করে মামলা থেকে নিঃশর্ত অব্যাহতির আবেদন জানান। জবানবন্দি প্রদানকালে বর্তমান সংসদের সরকার দলীয় হুইপ জি কে গৌছ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, শুধুমাত্র বিএনপি করার কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি ২৬ মাস জেল খেটেছেন এবং অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন; তাই তিনি এই মামলার বাদীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী এটিএম ফয়েজ জানান, আজ আদালতে আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর ও জি কে গৌছসহ অন্য আসামিরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে তাদের বক্তব্য পেশ করেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আবুল হোসেন জানান, আসামি পরীক্ষা শেষে আদালত আগামী ২১ এপ্রিল মামলার পরবর্তী যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। এর আগে বেলা ১২টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিরা আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছালে বিপুল সংখ্যক আইনজীবী ও দলীয় নেতাকর্মী সেখানে ভিড় জমান।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ জুন দিরাই বাজারে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় যুবলীগ কর্মী নিহত ও অন্তত ২৯ জন আহত হন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২০ সালে লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরী ও জি কে গৌছসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং বর্তমানে মামলাটি রায়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আজকের শুনানিতে সিলেট জেলা পিপি আশিক উদ্দিন ও মহানগর পিপি বদরুল আলম চৌধুরীসহ উর্ধ্বতন আইনজীবীরা অংশ নেন। অভিযুক্তরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, ন্যায়বিচারের মাধ্যমে তারা এই দীর্ঘস্থায়ী আইনি হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: