সংসদে ভূমিমন্ত্রী
‘ভূমি অফিসে দালালের দৌরাত্ম্য রুখতে কঠোর অবস্থানে সরকার’
উপজেলা ভূমি অফিসগুলোতে শিকড় গেড়ে বসা অনিয়ম ও নিয়ন্ত্রণহীন দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে সরকার নানামুখী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।
আজ জাতীয় সংসদে রংপুর-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সদস্য আখতার হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ভূমিসেবা পুরোপুরি ডিজিটালাইজড করার মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালদের হস্তক্ষেপ বন্ধে ই-নামজারি ও অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বর্তমানে আবেদনের প্রতিটি ধাপে নোটিশ জারি, শুনানি ও অনুমোদনের তথ্য আবেদনকারীকে তাৎক্ষণিকভাবে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হচ্ছে, যাতে করে প্রক্রিয়ার মাঝে কেউ অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ না পায়। ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাদের নগদ অর্থ লেনদেনের পথ বন্ধ করতে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাগরিকরা এখন এনআইডি ব্যবহার করে বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা কাজে লাগিয়ে সরাসরি সরকারি কোষাগারে কর জমা দিতে পারছেন, যা অবৈধ লেনদেনের সুযোগ প্রায় শূন্যে নামিয়ে এনেছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আকস্মিক পরিদর্শনের পাশাপাশি কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক শোকজ ও বিভাগীয় মামলার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতির শিকার হলে বা কেউ ঘুষ দাবি করলে প্রতিকার পেতে ১৬১২২ নম্বরে ২৪ ঘণ্টা কল করার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল সার্ভে পাইলটিংয়ের মাধ্যমে ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তিতে নিখুঁত ম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে, যা নকশা জালিয়াতি ও মানুষের হস্তক্ষেপ কমিয়ে আনবে। বর্তমানে ঢাকার তেজগাঁও নাগরিক সেবা কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে সেবা গ্রহণের পাশাপাশি land.gov.bd পোর্টালের মাধ্যমে ঘরে বসেই খতিয়ান দেখা ও ডাকযোগে পর্চা সংগ্রহের সুবিধা পাওয়ায় দালালের দৌরাত্ম্য ও অতিরিক্ত খরচ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন। এর বাইরেও লিজ এন্ড সেটেলমেন্ট ও ভূমি অধিগ্রহণ সিস্টেমের মতো আধুনিক সফটওয়্যার তৈরির কাজ চলমান রয়েছে যা ভবিষ্যতে দুর্নীতি নির্মূলে আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: