ডিজেল সংকট ও কাদামাটির ভোগান্তি
ধান কাটা নিয়ে বিপাকে তাহিরপুরের কৃষক
টানা বৃষ্টিতে কাদামাটির দুর্ভোগ আর জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হাওরপাড়ের জীবনযাত্রা। ডিজেল সংকটের কারণে হাওরের সোনালি ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন কয়েক হাজার কৃষক ও হারভেস্টার মেশিনের মালিক। কৃষি অফিস ডিজেল সংকট নেই দাবি করলেও মাঠের চিত্র একেবারেই ভিন্ন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ১৭ হাজার ৮৯ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে এবং ধান কাটার জন্য ৬৮টি হারভেস্টার মেশিন রয়েছে। তবে কৃষকদের দাবি, আবাদের প্রকৃত পরিমাণ ২৫ হাজার হেক্টরেরও বেশি। গত ৫ এপ্রিল এক সভায় হারভেস্টার মালিকদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে ডিজেল পর্যাপ্ত রয়েছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি হলো—তেল পাওয়ার জন্য এনআইডি কার্ড ও মেশিনের কাগজ নিয়ে কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে টোকেন পেতেই দিন পার হয়ে যাচ্ছে। এরপর টোকেন নিয়ে ডিলারের কাছে পৌঁছালেও অধিকাংশ সময় ‘তেল নেই’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে মালিকদের। বাধ্য হয়ে তাঁরা খুচরা বাজার থেকে ১৫০ টাকা লিটার দরে চড়া মূল্যে ডিজেল কিনছেন, যার প্রভাব পড়ছে ধান কাটার খরচে।
মাটিয়ান হাওরপাড়ের হারভেস্টার মালিক মুছিহুর রহমান মিলন ও শনির হাওরপাড়ের নাহিদুল ইসলাম জানান, গত বছর তেলের দাম ১০০ টাকার আশেপাশে থাকলেও এবার ডিলাররা ১১০ টাকা রাখছেন এবং সংকট থাকায় বাইরে থেকে আরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এর ফলে প্রতি কিয়ার (৩০ শতক) ধান কাটতে গত বছরের তুলনায় ২০০-৩০০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। অনেক ক্ষেত্রে হারভেস্টার মালিকরা শর্ত দিচ্ছেন, কৃষক ডিজেল জোগাড় করে দিলেই কেবল ধান কাটা হবে। এদিকে মহালিয়া ও শনির হাওরের কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, একদিকে তেলের সংকট, অন্যদিকে কাদামাটির কারণে হাওরের রাস্তায় হারভেস্টার মেশিন বারবার বিকল হয়ে পড়ছে।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম দাবি করেছেন, হারভেস্টার মালিকদের দ্রুত প্রত্যয়নপত্র দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। তবে ভাটি তাহিরপুর এলাকার কৃষক এবাদুল ইসলামসহ সাধারণ কৃষকদের মতে, শুধু সরকারি আশ্বাস নয়, বরং তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন না হলে হাওরের কষ্টের ফসল ঘরে তোলা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: