ধর্মপাশায় শ্রমিকের হাহাকার, পাকা ধান নিয়ে উৎকণ্ঠায় কৃষক
Led Bottom Ad

ধর্মপাশায় শ্রমিকের হাহাকার, পাকা ধান নিয়ে উৎকণ্ঠায় কৃষক

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

২০/০৪/২০২৬ ২৩:২১:২৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও তীব্র শ্রমিক সংকটে তা ঘরে তোলা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা। মাঠে ধান পেকে ঝরে পড়ার উপক্রম হলেও পর্যাপ্ত শ্রমিক না পাওয়ায় অনেক কৃষক এখনো ধান কাটা শুরু করতে পারেননি। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফসল হারানোর আশঙ্কায় কৃষিজীবীদের মধ্যে এখন কেবলই উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ছোট-বড় ৪৫টি হাওরে বোরো আবাদ হয়েছে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে অনেক স্থানে পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। বৃষ্টির ফলে হাওরের নিচু এলাকায় পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় কম্বাইন হারভেস্টার বা ধান কাটার আধুনিক যন্ত্রগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এতে কায়িক শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও স্থানীয় পর্যায়ে শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমানে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। অথচ বাজারে ধানের মণ মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। ফলে ধান কাটার মজুরি দিতেই উৎপাদিত ফসলের বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে। লোকসানের মুখে পড়ে অনেক কৃষক ‘আদি’ পদ্ধতিতে (অর্ধেক ভাগাভাগি) জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

পাইকুরাটি ইউনিয়নের কৃষক ঝনি মিয়া ও সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের রেহান মিয়া জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ধান মাড়াই ও পরিবহন খরচও আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। একদিকে শ্রমিকের উচ্চ মজুরি, অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়া—সব মিলিয়ে লাভের বদলে বড় ধরনের ঋণের বোঝা মাথায় চাপার ভয়ে আছেন তাঁরা। ধর্মপাশার হাওরগুলোতে দ্রুত সরকারি উদ্যোগে পর্যাপ্ত ধান কাটার যন্ত্র সরবরাহ ও শ্রমিক সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দুর্গত কৃষকরা।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad