জ্বালানি সংকটে থমকে গেছে সুনামগঞ্জের জীবনযাত্রা
Led Bottom Ad

দিশেহারা মোটরসাইকেল চালকরা

জ্বালানি সংকটে থমকে গেছে সুনামগঞ্জের জীবনযাত্রা

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

২০/০৪/২০২৬ ২০:৩৬:৪২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে সারা দেশের মতো সুনামগঞ্জেও দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট। নতুন করে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন জেলার প্রান্তিক আয়ের হাজার হাজার মোটরসাইকেল চালক। বিশেষ করে তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার মতো দুর্গম এলাকাগুলোতে, যেখানে মোটরসাইকেলই যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম, সেখানে এখন হাহাকার বিরাজ করছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল ও অকটেনের জন্য শত শত মানুষের দীর্ঘ লাইন। জামালগঞ্জ উপজেলার প্রবাসী ফেরত জিয়াউর রহমান জানান, দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষ করে দেশে এসে আয়ের পথ হিসেবে মোটরসাইকেল বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৩০০ টাকার তেল পাওয়া যাচ্ছে, যা দিয়ে যাতায়াত খরচই ওঠে না। একইভাবে তাহিরপুরের রুমান আহমেদ আক্ষেপ করে বলেন, কিস্তি দিয়ে কেনা মোটরসাইকেলের খরচ চালানোই এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সংকটের সুযোগে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পাম্পগুলোতে রেশনিং করে তেল দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ চালকদের জীবনযাত্রাকে স্থবির করে দিয়েছে।

তবে এই সংকটের পেছনে সাধারণ মানুষের ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত মজুদ করার প্রবণতাকেও দায়ী করছেন কেউ কেউ। সুনামগঞ্জ বলাকা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা আইনজীবী আকাশ চৌধুরী বলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রতিযোগিতার ফলে কৃত্রিম সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। অন্যদিকে, বলাকা ও সিনথিয়া ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তারা সরাসরি কথা বলতে রাজি না হলেও নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জানান, সরকারের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই তারা তেল সরবরাহ করছেন। তেলের দাম বৃদ্ধি এবং এই তীব্র সংকটে কর্মসংস্থান হারানোর শঙ্কায় দিন পার করছেন হাওরাঞ্চলের কয়েক হাজার যুবক।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad