সুনামগঞ্জে কোনো কাজে আসছেনা কোটি টাকার বজ্রনিরোধক যন্ত্র
Led Bottom Ad

৪ বছরে ৬৮ জনের মৃত্যু

সুনামগঞ্জে কোনো কাজে আসছেনা কোটি টাকার বজ্রনিরোধক যন্ত্র

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

২০/০৪/২০২৬ ১১:৪৬:০৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

বিশ্বের অন্যতম বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বজ্রপাত প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে জনমনে চরম অসন্তোষ ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। গত চার বছরে জেলায় সরকারি হিসেবেই ৬৮ জনের মৃত্যু হলেও, ২০২৩ সালে স্থাপিত ১৮টি আধুনিক বজ্রনিরোধক যন্ত্র এখন পর্যন্ত একটি বজ্রপাতও প্রতিহত করতে পারেনি। যন্ত্রগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে খোদ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারছেন না।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলার সদর, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও শাল্লা উপজেলায় এসব যন্ত্র স্থাপন করা হয়। প্রতিটি যন্ত্রের পেছনে ব্যয় হয়েছে ৬ লাখ টাকা। কারিগরি তথ্য অনুযায়ী, তুরস্ক থেকে আমদানিকৃত এই 'লাইটিং অ্যারেস্টার' যন্ত্রগুলো ৩শ ফুট ব্যাসার্ধের মধ্যে বজ্রপাত টেনে নিয়ে সরাসরি মাটিতে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা। একই সাথে ওই স্থানে বছরে কতটি বজ্রপাত হয়েছে, তাও গণনা করার সক্ষমতা রয়েছে এগুলোর। তবে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্যমতে, স্থাপনের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও যন্ত্রগুলোর গণনাকারী হিসেব এখন পর্যন্ত শূন্য।

হাওরপাড়ের বাসিন্দাদের অভিযোগ, যন্ত্রগুলো স্থাপনের ক্ষেত্রে কৃষকদের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে যখন হাওরের মাঝখানে কৃষকরা কাজ করেন, তখন তাঁরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকেন। কিন্তু তাহিরপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় যন্ত্রগুলো হাওরের গভীরে স্থাপন না করে লোকালয়ের কাছাকাছি বসানো হয়েছে। তাহিরপুরের বিএনপি নেতা মাহবুব মল্লিক জানান, বড় বড় হাওরগুলোতে কোনো দণ্ড স্থাপন না করে জনবসতির পাশে বসানোয় এগুলো কৃষকদের কোনো কাজেই আসছে না।

এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে আরও ৪০০ বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপনের পরিকল্পনা থাকলেও তা আজও আলোর মুখ দেখেনি। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হাসিবুল হাসান জানান, গত মৌসুম পর্যন্ত যন্ত্রগুলোর 'কাউন্ট' শূন্য ছিল। তবে যেখানে জনসমাগম বেশি, সেখানেই এগুলো বসানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। কার্যকর কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় চলতি ধান কাটার মৌসুমে আবারও বজ্রপাত আতঙ্ক তাড়া করে ফিরছে হাওরের প্রান্তিক কৃষকদের।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad